চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট এখন ইলিশে সয়লাব। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় কম ধরা পড়লেও দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশে ভরপুর চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটসহ শহরের ছোটবড় বাজার। প্রচুর সরবরাহ হওয়ায় আড়তগুলোতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় হতাশ ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, ভারতে ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্তে চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেশি। তাছাড়া আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। তাই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বেড়ে গেছে বলে অনেক বিক্রেতা দাবি করেন।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকার জানান, বর্তমানে প্রতিদিন মাছঘাটে চার-পাঁচ হাজার মণ ইলিশ আমদানি হচ্ছে। তবে লোকাল চাঁদপুরের ইলিশ একেবারেই কম। চাঁদপুর মাছঘাটে আসা অধিকাংশ ইলিশ নোয়াখালী, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, ভোলা থেকে আসা। চাঁদপুরের স্থানীয় ইলিশের পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম। পূর্ণিমার কারণে চলতি মৌসুমে বড় স্টেশন ঘাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ আসছে।

স্থানীয়রা সেপ্টেম্বরে ভরা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের ও সমুদ্র উপকূলের জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। জেলেরা এসব ইলিশ নৌকা ও ট্রাকে করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছেন দেশের অন্যতম বড় স্টেশন ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর মাছঘাটে।

গতকাল সকালে মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ডকাতিয়া নদীতে ভেড়ানো রয়েছে ৯-১০টি ফিশিং বোট। মাছভর্তি এসব বোট থেকে মাছ নামিয়ে বাজারে নিয়ে যাচ্ছে শ্রমিকরা। এছাড়া ট্রলার বোঝাই করেও ইলিশ আনা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে। শুক্রবার চার হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে এ বাজারে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ সাড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ও ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। সমুদ্র ও দক্ষিণাঞ্চলের নদীর ইলিশ প্রকারভেদে ১০০-২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্চ্ছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকতা গোলাম মেহেদী হাসান বণিক বার্তাকে জানান, ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে ও ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সে আলোকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত অভয়াশ্রম এলাকার মা-ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় ও মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে।