দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে কাঁচামরিচ। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মরিচ আমদানির পর সরবরাহ বেড়েছে। দামও কমেছে কেজিতে ৩৫-৪০ টাকা। গতকাল বন্দরে আমদানীকৃত কাঁচামরিচ পাইকারিতে (ট্রাকসেল) বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে, যা গত বৃহস্পতিবারও বিক্রি হয়েছিল ১২০-১৩০ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরে কাঁচামরিচ কিনতে আসা আইয়ুব আলী বলেন, ‘উৎপাদন কমার কারণে সরবরাহ কমেছে দেশের বাজারে। এজন্য কাঁচামরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দর থেকে কাঁচামরিচ নিয়ে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছিলাম। প্রথম দিকে আমদানি কম ছিল। এজন্য দামও বেশি ছিল। বর্তমানে বন্দর দিয়ে আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি দামও কমেছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দর থেকে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১২০-১৩০ টাকা দরে ক্রয় করে বিভিন্ন মোকামে পাঠিয়েছিলাম। সেই কাঁচামরিচ গতকাল ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।’
তবে হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলা তাপপ্রবাহের কারণে কাঁচামরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। দেশের বাজারে দাম সহনীয় রাখতে ২৩ মে সরকার কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। ওইদিন থেকেই ভারত থেকে আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। দেশের বাজারে ভালো চাহিদা ও দামের কারণে আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। প্রথম কয়েকদিন আমদানি কম হলেও ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। প্রথম দিকে দুই-তিন ট্রাক করে আমদানি হলেও এখন ছয়-সাত ট্রাক করে আমদানি হচ্ছে। এতে করে দেশের বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। সে তুলনায় চাহিদা না থাকায় দামও কিছুটা নিম্নমুখী। এক কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে ৩৭ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে ৭৫-৮০ টাকার মতো খরচ হয়েছে। দাম কমার কারণে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধের পর ২৩ মে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিকে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কম হলেও এখন বেড়েছে। বন্দর দিয়ে গত ২৩ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৪৫টি ট্রাকে ৪৪৭ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে।’










