দেশের পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মধ্যে সুনামগঞ্জে মা-মেয়ে, বগুড়ায় বাবা-ছেলে এবং রংপুরে মা-ছেলেসহ নয়জন রয়েছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও যশোরে আরো দুজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল দিনের বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

সুনামগঞ্জ: জেলার শান্তিগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শত্রুমর্দন বাঘেরকোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা আবাদিত কেশবা প্রিয় (৪০) ও তার মেয়ে সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী প্রথমা চৌধুরী। তারা হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত অন্যজন শহরের নবীনগর এলাকার সজল ঘোষ (৫০)।

পুলিশ জানায়, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা সুনামগঞ্জগামী একটি ট্রাক সামনে থেকে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে যাত্রী কেশবা প্রিয় ও চালক সজল ঘোষ ঘটনাস্থলে মারা যান। কেশবার মেয়ে প্রথমা চৌধুরীকে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশ দিয়েছে। আটক চালকের নাম পারভেজ আহমদ (৩০)।

জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের ওসি সুমন কুমার চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো একজন মারা গেছেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

বগুড়া: সারিয়াকান্দিতে বালিবাহী ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে বগুড়া-সারিয়াকান্দি সড়কের ফুলবাড়ি কাঁঠালতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কুঠিবাড়ি গ্রামের বিপুল চন্দ্র দাস (৩৮) ও তার ছেলে বিপ্লব চন্দ্র দাস (৫) ও শিবগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের অটোরিকশারচালক শুকুর আলী (৪০)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিপুল চন্দ্র দাসের স্ত্রী মমতা রানী দাস (৩২) ও মেয়ে রূপা মণি দাস (১২)। তারা দুজনেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হতাহতরা সবাই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

সারিয়াকান্দি থানার ওসি জামিরুল ইসলাম জানান, বিপুল চন্দ্র দাস পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। পূজার ছুটিতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলেন। ভোরে ঢাকা থেকে বাসে বগুড়ায় নেমে তারা একটি অটোরিকশায় করে নারচীর দিকে যাচ্ছিলেন। ফুলবাড়ি কাঁঠালতলা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এ সময় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক শুকুর আলী মারা যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত চারজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে বিপুল ও তার ছেলে বিপ্লব মারা যান। দুর্ঘটনার পর পরই ট্রাকচালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

রংপুর: পিকআপ ও বালিবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুজন। গতকাল ভোর ৪টার দিকে রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানাধীন দমদমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাজহাট থানার ওসি শাহজাহান আলী।

নিহতরা হলেন পিকআপ চালকের সহকারী ও নগরীর মীরগঞ্জ এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে আরিফ হোসেন (২০), পীরগাছার সাতদরগা এলাকার মোতালেব হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম (২৮) ও তার ছেলে ওয়ালিদ হোসেন স্বাধীন (১)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাড়ির আসবাব নিয়ে পিকআপে মাহিগঞ্জ যাচ্ছিলেন শাহিনা বেগম। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দমদমা ব্রিজের কাছে পিকআপ ভ্যানটি ইউটার্ন নেয়ার সময় বালিবাহী ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা তিনজনই নিহত হন। এ ঘটনায় পিকআপের হেলপারকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি গাড়ি তাজহাট থানায় রাখা হয়েছে। ট্রাকচালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাজহাট থানার ওসি শাহজাহান আলী জানান, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মৃদুল (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার বন্ধু আহম্মদ। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বাচল ৯ নম্বর সেক্টরের জলসিঁড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কাঞ্চন হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সোহেল রানা জানান, ঢাকামুখী একটি মোটরসাইকেল জলসিঁড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী মৃদুল ও আহম্মদ সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিসের একটি দল তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আহম্মদকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নড়াইল: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আলমসাধু (শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানবাহন) ডোবায় পড়ে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। গতকাল সকালে নড়াইল সদর উপজেলার বামনহাটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহফুজ (২০) মাগুরার শালিখা উপজেলার শরুশুনা গ্রামের মাসুদ মন্ডলের ছেলে।

বাঘারপাড়া থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।