পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেছেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের টাকার কোনো অভাব নেই। আমরা টাকা বরাদ্দ দেব, সংশ্লিষ্টদের উন্নয়ন প্রকল্পে ভালো কাজ করতে হবে। কাজে গাফিলতি করা যাবে না। উন্নয়নকাজের সময়সীমার দিকে খেয়াল রেখে টাকা ও সময়ের অপচয় রোধ করতে হবে। তাহলে কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

গতকাল বিকালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সেতু রানীগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটি মহল দেশের সার্বিক উন্নয়নকে পছন্দ করে না। তারা উন্নয়ন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাদের কথা কানে নেয়া যাবে না। তারা বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাদের কাজই এসব ছড়ানো। তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমরা এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। মানুষ না খেয়ে মরছে না। মহামারী করোনায়ও আমরা ঘরে ঘরে খাবার দিয়েছি। একটা দল তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নানা গুজব ছড়ায়। মানুষের কল্যাণে আসে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের গরিব মানুষকে ভালোবাসেন বলে এসব করা সম্ভব হয়েছে। তাই দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই।

রানীগঞ্জ সেতু নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করে জেলা শহর সুনামগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর স্বল্প সময়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুশিয়ারা নদীর ওপর ৭০২ দশমিক ৩২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থ এ সেতুর কাজ শুরু হয়। ৩০ জুন ২০১৮ সালে সেতুর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-সিলেট ছয় লেন সড়ক হচ্ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন সড়ক নির্মাণ করছে। সড়কটি আধুনিক ও বিশ্বমানের হবে। এ সড়কের ১৭ কিলোমিটার ফ্লাইওভারসহ মধ্যখানে ডিভাইডার হবে। সড়কের পাশাপাশি ডাবল রেললাইন স্থাপন করা হবে। পদ্মা সেতু ও কর্ণফুলী নদীতে সুড়ঙ্গপথের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

মন্ত্রী গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজার পৌরসভা আয়োজিত প্রেস ক্লাব চত্বরে কোদালীছড়ার উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সৈয়দা জহুরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মীর নাহীদ আহসান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান ও প্রকল্প পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান প্রমুখ।

তিনি আরো বলেন, কিছু লোক আমাদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। এরা মনে-প্রাণে বাংলাদেশের ভালো চায় না। তাদের কারণে ত্রিশ লাখ মানুষের রক্ত দিতে হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া গর্বের বিষয়। এখন জ্বালাও-পোড়াওয়ের দিন শেষ, উন্নয়নের বাংলাদেশ। ব্রিজ-কালভার্টের উন্নয়ন করলে হবে না। শত্রুদের চিহ্নিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক সরকার স্বৈরতান্ত্রিক সরকার নয়। গায়ের জোরে কিছু করা যায় না। গায়ের জোরে কাজ করে স্বৈরশাসক। এ সরকার আপনাদের সরকার।

সরকারের নানা কার্যক্রম নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২০ হাজার টাকা করেছে, ১০ টাকায় চাল, বিনা মূল্যে চাল ও ঋণ সুবিধা দিয়েছে। দরিদ্রের ম্যাপ আছে, বিদ্যুতের ম্যাপ আছে, স্কুলের ম্যাপ আছে। প্রত্যেক জেলায় পর্যায়ক্রমে যারা পিছিয়ে আছে, তাদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কোনো প্রকল্প নিলে সাধারণ মানুষের উপকার হয় কিনা সেটি প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে হয়।

বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা উঁচু, সেগুলোতে পানির একটু সমস্যা হয়। আমরা সবাই মিলে কাজ করতে চাই। আমাদের কাছে মনে হয় সব সমস্যা একদিনেই সমাধান করে দিই। কাজ শেষ করার অপেক্ষা করতে হবে। আগামী পাঁচ বছর কী কাজ হবে, সেটির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিকল্পনা ব্যতীত কোনো কাজ হয় না।