নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় জেকেজির দুই শীর্ষ কর্মকর্তার আরিফুল হক চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ডা. সাবরিনাকে জিজ্ঞসাবাদ চলছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে চলা জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অন্তত ছয়বার মুখোমুখি করা হয়েছে। সেখানে তারা পরস্পরকে দোষারোপ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রখেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডের প্রথম দিন থেকেই কভিড-১৯ এর নমুনা পরিক্ষায় জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে চলেছেন ড. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। এমনকি তিনি জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যানের পদেও কখনো ছিলেন না বলে দাবি করছেন। পরে কোম্পানি থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন নেওয়ার বিষয়ে দালিলিক প্রমাণ হাজির করা হলে তিনি এগুলো আরিফ চৌধুরীর নিজেরই বানানো বলে দাবী করেন। এরপর বুধবার সন্ধ্যার পর তাদের মুখোমুখি করা হয়। এসময় আরিফ চৌধুরী চেয়ারম্যানের পদের বিপরীতে মাসে ৩০ হাজার টাকা সাবরিনাকে দেওয়ার কথা স্বীকার করে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (তেজগাঁও) গোলাম মোস্তফা রাসেল বণিক বার্তাকে বলেন, বুধবার রাতে তাদের মুখোমুখি করা হয়েছে। এসময় তারা একে অপরের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। তারা নিজেদেও দোষগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেকেজির এমন কর্মকান্ডে পেছনে কোন অন্য কোন যোগসূত্র আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, মামলা ডিবিতে হস্তান্তরের পর আগের তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছে থাকা সব ধরনের দালিলিক প্রমাণ ডিবিতে পৌঁছে দেন। সেখানে জেকেজির চেয়ারম্যান হিসাবে সাবরিনা বিভিন্নস্থানে যে পরিচয় দিয়েছেন তার অডিও ক্লিপও রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কাগজে তার স্বাক্ষরের বিষয়টিও হাজির করা হয়। এরপর সাবরিনা দায় এড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখোমুখি করার আগে এসব দালিলিক প্রমাণ তাদের সামনে হাজির করা হয়। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের কারো যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হয়।
তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এসব প্রশ্নে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আরিফ। কারণ হিসাবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজও পাইয়ে দিতো সাবরিনা। সব কিছুতেই সাবরিনা ছিলো সামনে। এখন নিজে বাচতে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। এসব কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাবরিনা। পরে তাদের আলাদা করে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তদন্ত তদারক কর্মকর্তারা। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো মিলিয়ে নিতে বৃহস্পতিবার দিনভর অন্তত ৬ দফায় তাদের মুখোমুখি করা হয়।
তদন্ত তদারক কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাত থেকে তারা দুজনই কঠোর অবস্থানে থেকে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার তারা কিছুটা নমনীয় হন। আশা করা যাচ্ছে আরিফ চৌধুরী চারদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেবেন। শুক্রবার সাবনিরাকে দ্বিতীয় দফায় আরো সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। তারা হাজার দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হবে না। কারণ এ বিষয়ে যথেষ্ট দালিলিক প্রমাণ হাজির করা হচ্ছে।










