স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি ছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক-মেডিকেল-ডেন্টাল কেয়ার সেন্টারসহ অন্য যেকোনো স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা নিষিদ্ধ। কিন্তু বান্দরবানে গত চার বছরে অনুমোদনহীন বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৬০ শতাংশ। একই সঙ্গে পুরানো কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের মহা পরিচালকের নির্দেশে লামায় অভিযান পরিচালনা করে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত আটটি বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিউদ্দিন মোরশেদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, উপজেলা সদরসহ প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে ওঠা অবৈধ সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লামা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্র জানায়, অভিযান পরিচালনাকালে একটি অনিবন্ধিত হাসপাতাল ও সাতটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। সিলগালাকৃত হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হলো, লামা সদরের পাহাড়িকা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেমোরি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আদর্শ ফার্মেসি, সেবা প্যাথোলজি, ইয়ংসা বাজারের জনসেবা প্যাথোলজি, রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ফেমাস মেডিকো ও আজিজনগর ইউনিয়নের রবি প্যাথোলজি, আজিজনগর জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় জেলায় বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক-মেডিকেল-ডেন্টাল কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা ছিলো ১৭টি। এর মধ্যে বান্দরবান সদরে ১১টি, লামা উপজেলায় দুটি, আলীকদম উপজেলায় দুটি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দুটি। তবে বান্দরবান সদরের মাউন্টভ্যালি মেডিকেল সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বিভাগীয় পরিচালককে (স্বাস্থ্য) বান্দরবান সিভিল সার্জন একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে আবেদিত এবং আবেদিত নয়- দুই ভাগে মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়। এই ১৩টির মধ্যে গত চার বছরে নানা সময়ে প্রতিষ্ঠিত নতুন চারটি যুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে বান্দরবান সদরে একটি, আলীকদম উপজেলায় একটি, লামায় একটি, নাইক্ষ্যংছড়িতে একটি। এই নতুন চারটিসহ গত মঙ্গলবার পর্যন্ত লামায় সিলগালা করা আটটির মধ্যে পুরনো একটি ছাড়া মোট ১১টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গত চার বছরে গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো অনুমোদন নেই বলে সূত্র জানিয়েছে।










