লক্ষ্মীপুরে দৈনিক ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তবে সে অনুপাতে সরবরাহ নেমেছে অর্ধেকে। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে দিনের অর্ধেক সময়ই থাকছে লোডশেডিং। ঈদের আগ মুহূর্তে লোডশেডিংয়ের কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

লক্ষ্মীপুর পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় তারা চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে। প্রতিদিন চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ ও বাকি অর্ধেক লোডশেডিং করে পার করতে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এদিকে সাহরি, ইফতার ও তারাবির নামাজের সময়ও লোডশেডিং থাকায় ভোগান্তি চরমে। এছাড়া লক্ষ্মীপুরসহ সব কয়টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ঠিকমতো পানি সরবরাহ করতে না পারায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হোসেন মাছুম ভূঁইয়া পৌরবাসীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের শহরের বাসিন্দা সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জেডএম ফারুকী বলেন, ‘একদিকে রোজা, অন্যদিকে গরম। পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শহরে বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম তাজুল ইসলাম জানান, জেলায় দৈনিক ১১৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৬৫-৮০ মেগাওয়াট। এ সরবরাহ দিয়েই পাঁচটি উপজেলার মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ কয়েক লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ দিতে হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে দিনের অর্ধেক সময় লোডশেডিং করা লাগছে।

লক্ষ্মীপুর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন জানান, লক্ষ্মীপুরে পিডিবির দৈনিক চাহিদা রয়েছে ১৩ মেগাওয়াট। বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫-৭ মেগাওয়াট, যা কখনো কখনো চাহিদার অর্ধেকেরও কম। এ অবস্থায় লোডশেড করে পার করতে হচ্ছে তাদের।