লালমনিরহাটের মাইক্রোবাস চালক নববিবাহিত বেলাল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটনসহ ঘাতক আলমগীর হোসেনকে (৩০) গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে নিজ সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা।
গ্রেফতার আলমগীর হোসেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের মোস্তফিরহাট এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানান, পাঁচ-ছয় বছর আগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের মালীটারী এলাকার নজরুল ইসলামের কন্যা নাসরিন নাহার মিথির সাথে বিয়ে হয় আলমগীর হোসেনের। তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক। এরপর শ্যালিকা লাবনীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৪ জুন হঠাৎ করে পারিবারিকভাবে লাবনীর সাথে বিয়ে হয় মাইক্রোবাস চালক বেলালের। এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি নববধূ লাবনী ও তার দুলাভাই আলমগীর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলালকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘাতক আলমগীর হোসেন।
তিনি নিহত চালক বেলাল হোসেনের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী লাবনী বেগমের দুলাভাই। আলমগীর হোসেন নিজেও ট্রাক চালক।
হত্যার শিকার মাইক্রোবাস চালক বেলাল হোসেন (২৯) লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের হাড়িভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে।
পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, গত ২৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলমগীর হোসেন ছোট ভায়রা বেলাল হোসেনকে কোল্ড ড্রিংকসের সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ায়। এরপর মোটরসাইকেল যোগে তাকে নিয়ে আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের যুগিটারী এলাকায় গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়কের পাশের একটি পাটক্ষেতে লাশ ফেলে যায় ঘাতক আলমগীর হোসেন ও তার সহযোগিরা। এর দুই দিন পর ২৭ জুলাই স্থানীয়দের খবরে বেলালের অর্ধগলিত লাশ অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার করে আদিতমারী থানা পুলিশ। পরে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করে।
আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, অর্ধগলিত বেলাল হোসেনের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা (২৯ জুলাই) দায়ের করে। ক্লু-লেস এ হত্যা মামলাটি আদিতমারী থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) আনিসুর রহমান আনিস তদন্ত করে সন্দেহজনকভাবে বেলালের নববধূ স্ত্রী লাবনী বেগমকে (২১) আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যমত গত সোমবার
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) সদর উপজেলার বড়বাড়ি থেকে ঘাতক আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আলমগীর হোসেনের দেয়া তথ্যমতে, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতক আলমগীর হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার আতিকুজ্জামান আতিক, আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক(এসআই) আনিসুর রহমান আনিস উপস্থিত ছিলেন।










