গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যার শাখা ধাত্রী নদী। বাজারটির সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থানে ২০২৩ সালে নির্মাণ করা হয় ৯৭ দশমিক ৩৪ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি চালু করা যায়নি। অরক্ষিতভাবে পড়ে থাকা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু চুরিও হয়ে যাচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা এবং জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরনো এক লেনের সেতুটি সরু হওয়ায় সেখানে নিয়মিত যানজট দেখা দিচ্ছে। নতুন সেতুটি চালু হলে মাওনা-গফরগাঁও সড়কের বরমী বাজার অংশ বাইপাস হিসেবে ব্যবহার হতো। এতে দূরত্ব ও যানজট কমে যেত। কিন্তু সেতুটি নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যানজট ও যাতায়াতের ভোগান্তি আগের মতোই রয়ে গেছে।
সওজ বিভাগ বলছে, ১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯৭ দশমিক ৩৪ মিটার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরপি কনস্ট্রাকশন ও এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং। সেতুর ১ একর ৩৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জেলা প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ জমি অর্পিত সম্পত্তি হওয়ায় অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেয়। জেলা প্রশাসন অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ দিয়ে জমি খালি করতে চাইলেও সেখানে বসবাসরতরা যেতে রাজি হননি। সড়ক বিভাগও উচ্ছেদে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এ ব্যাপারে সওজ বিভাগ গাজীপুর অঞ্চলের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরুজ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের পুরো অর্থ আমরা জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় হস্তান্তর করেছি। মূল সমস্যা হচ্ছে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া। সমন্বয়হীনতার বিষয়টি ঠিক নয়, আমরা শিগগিরই আবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করব।’
সরজমিনে দেখা গেছে, সেতুর এক প্রান্তে ধানের বাজার বসেছে। সেতুর ওপর স্থানীয়রা আড্ডা দিচ্ছেন, কেউ কেউ নিজের যানবাহন ধুয়ে-মুছে নিচ্ছে। সেতুর মাঝখানে বালি ও ইটের খোয়ার স্তূপ। পশ্চিম পাশে মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক সড়ক থেকে সেতুতে ওঠার জন্য একটি সংযোগ সড়ক থাকলেও পূর্ব প্রান্তটি এখনো অন্য পাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়নি। স্থানীয়রা চলাচলের জন্য সেখানে বালির বস্তা ফেলে রেখেছে।
সেতুর পূর্ব পাশের পাইটালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ব দিকের সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি। বারবার উদ্যোগ নেয়া হলেও জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কাটেনি। ঠিকাদারের কার্যাদেশের মেয়াদও শেষ হয়েছে।
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রতন মিয়া বলেন, ‘সরকার বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেছে। কিন্তু এটি চালু না হলে এ অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না।’
একই এলাকার মো. অহাব মিয়া বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, অথচ তা এভাবে পড়ে আছে। দেখতে খুবই খারাপ লাগে। দ্রুত এটি চালু করা দরকার।’
সার্বিক বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. কায়সার খসরু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখানে কিছু অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে। এ কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেকে বিল উত্তোলন করেছেন। প্রকৃত দাবিদারদের নোটিস দেয়া হয়েছে। তারা এলে বিল তুলতে পারবেন। তবে শুনেছি, এখনো কিছু মানুষ জমি দখল করে আছেন। সড়ক বিভাগ যদি চায়, তাহলে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবে। কেননা সংযোগ সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।’










