পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। এ ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনে এক সপ্তাহে ঘর-বাড়ি হারিয়েছে সাড়ে চার শতাধিক পরিবার। ভাঙনের তীব্রতায় নদীতীরের মানুষ অসহায় হয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।

সপ্তাহব্যাপী এ ভাঙন চলতে থাকলেও সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে তিস্তার স্থায়ী ভাঙনরোধে কোনো প্রকল্প না থাকলেও জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, উজানের ঢলে পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মুহূর্তেই ভাঙছে খরস্রোতা তিস্তার তীর। ভাঙনের আকস্মিকতায় ঘর-বাড়ি সরিয়ে নেয়ার সময়টুকুও যেন পাচ্ছেন না দুর্গতরা। এ পরিস্থিতি একদিকে সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রতিনিয়তই নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো, অন্যদিকে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে হুমকিতে থাকা পরিবারগুলো।

এরই মধ্যে শুধু উলিপুরের বজরা ইউনিয়নে তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে দুটি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, ব্র্যাক স্কুলসহ চার শতাধিক ঘরবাড়ি। পাশাপাশি শত শত একর ফসলি জমিও তিস্তায় বিলীন হয়েছে। এ অবস্থায় তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।

উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা গ্রামের আব্দুল হামিদ জানান, কয়েক বছরে তিস্তা নদীর এমন ভাঙন দেখিনি। মুহূর্তেই ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাচ্ছে। গত তিন দিনে ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবার সড়ক ও অন্যের জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। আমরা এখন কোথায় যাব সে উপায়ও নেই।

একই এলাকার হামিদা বেগম জানান, তিস্তায় তিনবার বসতবাড়ি হারানোর পর আবারো ভাঙনের কবলে পড়েছে তার বাড়ি। ভাঙনের যে গতি তাতে হয়তো দু-একদিনের মধ্যে তার বাড়ি ভেঙে যাবে। এখন তো আর যাওয়ার জায়গা নেই। আবাদি জমি, বাগান কিছুই থাকবে না।

বজরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরদার জানান, আমার ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ড নদীগর্ভে চলে গেছে। শুধু আমার ইউনিয়নেই চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে করে প্রতিদিনই ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার। আমি এ ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দপ্তরে গেছি। অবশেষে কিছু জিওব্যাগ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেগুলোয বালি ভরে পাড়ে ফেলানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে এ সামান্য জিওব্যাগ দিয়ে কাজ হবে না। অন্তত এক লাখ জিওব্যাগ লাগবে।  

তিস্তার বামতীরে বজরা ইউনিয়নে ভাঙনের কথা স্বীকার করে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ-আল-মামুন জানান, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। যেহেতু তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনার কারণে এখানে কোনো প্রকল্প নেই। ভাঙনকবলিত বজরা  এলাকা রংপুর বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকসহ পরিদর্শন করেছেন। আমরা প্রকল্প তৈরি করে পাঠিয়েছি। আশা করি ব্যবস্থা নিতে পারব। 

তিস্তার বাম তীরে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও বজরা ইউনিয়নেই চার কিলোমিটার এলাকাব্যাপী ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে চার শতাধিক পরিবার।