গাজীপুরের শ্রীপুরে দশ দফা দাবিতে ‘আরএকে সিরামিক’ কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। গতকাল ভোর সাড়ে ৬টা থেকে পরবর্তী ২ ঘণ্টা মহাসড়কের শ্রীপুরের নয়নপুর (ধনুয়া) এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। এতে সড়কের দুপাশে যানবাহন আটকা পড়ে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
শ্রমিকদের ১০ দফা দাবিগুলো হলো চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বেতনের সঙ্গে ইনক্রিমেন্টের সাত মাসের এরিয়ার বিল ১ আগস্টের মধ্যে দিতে হবে, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক পদে সঠিক কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে এবং যোগ্য পদে অযোগ্য লোক থাকলে তাকে অতিদ্রুত অপসারণ করতে হবে, প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মানসম্মত বাড়তি বেতন নিশ্চিত করতে হবে, দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলনরত অবস্থায় শ্রমিকরা যতদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবে ততদিনই কর্মদিবস বা হাজিরা দিতে হবে।
এছাড়া নতুন ও পুরনো শ্রমিকদের জন্য সঠিক বেতন কাঠামো প্রণয়ন, সিভিল কর্মীদের ন্যূনতম হাজিরা ৫০০ টাকা নির্ধারণ, মাসিক হাজিরা বোনাস ১ হাজার ৫০০ টাকা করা, আন্দোলনের পর কাউকে চাকরিচ্যুত না করা, বয়স্ক ভাতাসহ পুরনো সব সুবিধা চালু এবং কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ের ভারতীয় কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব দাবি জানিয়ে এলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ মানছে না। কর্তৃপক্ষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। তাই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
পরে আন্দোলনের খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা পুলিশের কথায় কান না দিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করলে যান চলাচল শুরু হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। তারা না সরলে আইনি ব্যবস্থা নিতে হয়।’
কারখানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শ্রমিকদের কিছু দাবি যৌক্তিক হলেও অনেকগুলো দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। কারখানার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবিগুলো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কিন্তু তারা আলোচনার সুযোগ না দিয়ে কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিকের উসকানিতে সড়ক অবরোধে নেমেছে।’










