মানুষের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে ব্রিটিশ আমলে জমিদার কালাচান দত্ত একটি দিঘি খনন করেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাদিরাবাদ গ্রামে খনন করা দিঘিটি সেই থেকে কাদিরাবাদ দিঘি নামে পরিচিত। তবে দিঘির জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও ভরাট করে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর জমিদার কালাচান দত্ত ভারতে চলে যান। পরে দিঘির জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। দখলের কারণে দিঘিটি এখন আরো সংকুচিত হয়েছে। দখলদাররা প্রথমে দিঘির পূর্বপাড়ে মসজিদ নির্মাণ করে। দিঘির জমি নিজেদের দাবি করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করছে। সম্প্রতি আলাউদ্দিন আলো আকন, সামছু আকন, শাহ আলম ভূঁইয়া, সোবহান ভূঁইয়া ও সবুজ ভূঁইয়া জমির মালিকানা দাবি করে দিঘি ভরাট করেছেন। পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তরপাড়ে স্থাপনাও নির্মাণ শুরু করেছেন।

তবে দিঘির মালিকানা দাবি করা শাহ আলম ভূঁইয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এ জমি তাদের পূর্ব পুরুষ এফাজ উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার বন্ধু বসির আকন যৌথভাবে ক্রয় করেছেন। দিঘি আমাদের, তাই স্থাপনা নির্মাণ করছি। দিঘি বা জলাশয় স্থাপনা নির্মাণ বা ভরাট করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। অনুমতির জন্য আবেদন করব।’

স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার দাদা ও বাবার মুখে শুনেছি ব্রিটিশ আমলে এখানকার হিন্দু জমিদার কালাচান দত্ত দিঘিটি খনন করিয়েছেন। সেই দিঘি অন্যদের সম্পত্তি হলো কীভাবে তা বুঝতে পারছি না। আশা করি, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি দেখবে।’

কাদিরাবাদ গ্রামের ৭০ বছর বয়সী খালেক হাওলাদার বলেন, ‘আমরা ছোট বেলা থেকে দিঘি দেখে আসছি। এটা হিন্দু জমিদার কালাচান দত্ত তার আমলে খনন করেছেন। এখন অন্যরা মালিক হলো কী করে তা বলতে পারছি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বরিশালের সমন্বয়কারী লিঙ্কন বায়েন বলেন, ‘হোক ব্যক্তি মালিকানা জমি, যদি জমি কাগজপত্রে এটা দিঘি হিসেবে উল্লেখ থাকে, তাহলে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। শত বছর দিঘিটি থাকলেও তখন কেউ এর মালিক ছিল না, হঠাৎ করে দিঘি দখল ও স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি দুঃখজনক।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কামাল মেহেদি জানান, অভিযোগ পেয়ে তারা পরিদর্শন করেছেন। জমিটির মালিকানার কাগজপত্র দেখা হয়েছে। এটা খাস খতিয়ানভুক্ত কিনা তাও দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের সময় ভূঁইয়া ও আকন পরিবার দিঘির জমি নিজেদের বলে দাবি করেছে। তবে তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তখন উপস্থাপন করতে পারেনি। এখন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জলাশয় বা দিঘি ব্যক্তি মালিকানার হলেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভরাট করার নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’