সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংসদে বিএনপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তিনিই হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান। গতকাল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
গতকাল দুপুরে নির্বাচন কমিশনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন ড. মঈন খান ও সমর্থক হিসেবে সই করেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার পর গতকাল বিকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আমরা তিনটি মনোনয়নপত্র পেয়েছি। এর মধ্যে অলি আহমদের দুটি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটা মনোনয়নপত্র পেয়েছি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দুজন।’ তিনি আরো জানান, আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। সংসদ সচিবালয় থেকে তাদের একজন প্রতিনিধি থাকবেন।
এর আগে গতকাল দুপুরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ায় মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দলের সিনিয়র নেতারা বেলা ২টা ২৩ মিনিটে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন ভবনে মির্জা ফখরুলের পক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা দিতে যান।
এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। অলি আহমদের দুটি মনোনয়নপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘এটা তো আমাদের বিষয় না। আমরা বাছাই করব। প্রথমটা যদি বাতিল হয়, তখন দ্বিতীয়টা বাছাই করব।’ তবে কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকের স্বাক্ষর ও কিছু ঐচ্ছিক ভুল থাকায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট অলি আহমদের বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় মনোনয়নপত্র জমা দেয়। যাতে যাচাই-বাছাইয়ের সময় একটি বাতিল হলে অন্যটি বিবেচনায় নেয়া হয়।
এদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেছেন। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। দীর্ঘ সময়ে বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দলের দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময় বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মির্জা ফখরুল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আইন অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিত্ব সরকারি দুটি পদই শূন্য হবে। যার ফলে তার নির্বাচনী আসনও শূন্য ঘোষণা করা হবে, একই সঙ্গে এলজিআরডিমন্ত্রী পদে কে আসবেন, তা নিয়েও চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা।










