পাশাপাশি রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে ও দিনের বেলায় স্পিডবোটে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ১৭-২৪ মার্চ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও দ্রুত পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া সাধারণ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ফেরিতে পারাপার বন্ধ রাখা হবে, যাতে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন থাকে।

গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এসব নির্দেশ দেয়া হয়।

পরে সংবাদ সম্মেলনে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রীদের চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা, নিরাপদ যাত্রা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।’

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়ক ১৫ রোজা থেকে ঈদের পরে তৃতীয় দিন পর্যন্ত যানজটমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সদরঘাট এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। কোনো অবস্থাতেই অনুমোদিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না এবং লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের ছাদে যাত্রী ওঠানো যাবে না। বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা সব নদী বন্দর, টার্মিনাল, ঘাট ও নৌযানে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ নৌপথে ফিটনেসবিহীন নৌযান ও ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব নৌযানকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ও সিরিয়াল ভঙ্গ বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নদীর মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো বন্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার করা হবে।’

এছাড়া যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে ১৫ রোজা থেকে ঈদের পর তৃতীয় দিন পর্যন্ত প্রতিটি লঞ্চে ন্যূনতম চারজন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক ঘাট এলাকায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হবে এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং টিম গঠন করে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করার কথাও বলেন মন্ত্রী।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।