বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঁচামরিচ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে দেশের বাজারে সরবরাহ কমেছে মসলাজাতীয় পণ্যটির। দামও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছেন আমদানিকারকরা। সরবরাহ বাড়ায় একদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানীকৃত মরিচের দাম কেজিপ্রতি কমেছে ২৫-৩০ টাকা। একদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৫০-১৫৫ টাকা পাইকারি বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা কমে ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরে কাঁচামরিচ কিনতে আসা সিদ্দিক হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই হিলি স্থলবন্দর থেকে কাঁচামরিচ কিনে পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছি। গত সপ্তাহে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সে সময় ১৬০-১৭০ টাকা কেজি দরে কাঁচামরিচ কিনতে হয়েছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকেই আমদানি বাড়ায় দামও কমতির দিকে। বর্তমানে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। গত রোববারও পণ্যটি বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৫৫ টাকা কেজি দরে। দাম কমায় পুঁজি কম লাগছে।’

আমদানিকারক সাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরমে মরিচ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দামও বাড়ছিল। বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। আমদানির পর থেকে প্রতি কেজি মরিচের দাম ১০০ টাকার মধ্যেই ছিল। সম্প্রতি বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরবরাহ কমায় দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়েছে। ভারতেও বন্যার কারণে মরিচের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে। এজন্য দাম কিছুটা কমেছে। কাঁচামরিচ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে দেশের বাজারে দাম আরো কমে আসবে। ভারত থেকে প্রতি টন মরিচ আমদানি করা হচ্ছে ৫০০ মার্কিন ডলারে। আর প্রতি কেজিতে সরকারকে ৩৫ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে।’

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধের পর ২৩ মে থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। এর পর থেকেই বন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আমদানির পরিমাণ ওঠানামা করছে। আগে বন্দর দিয়ে পাঁচ-সাত ট্রাক মরিচ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১০-১২ ট্রাক হয়েছে। সোমবার একদিনেই বন্দর দিয়ে ১২টি ট্রাকে ১২১ টন মরিচ আমদানি হয়েছে। গতকাল কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত ছিল।’