বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। এ নির্বাচন একটি অত্যন্ত মেরুকরণকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রকৃত প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। ফলে এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি। রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে গতকাল কূটনীতিকদের সম্মানে দেয়া বিএনপির ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
জাতিসংঘ ছাড়াও ৩৮টি দেশের প্রতিনিধিরা এ ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে কূটনীতিকদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন। আমরা এমন এক সময়ে ইফতারের জন্য একত্রিত হয়েছি, যখন দেশ আবার ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছে। বিশ্ব জানে, বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি যা ঘটেছিল তা কোনো নির্বাচন নয়, বরং জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য তা অপমানজনক। শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা নির্লজ্জ কারচুপি, অনিয়ম ও সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ছবি, ঘটনাস্থলে ধারণ করা রিয়েল টাইম ভিডিও এবং সারা দেশের নির্বাচনী প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়েছে এ নির্বাচনের চিত্র। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এ ডামি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনেরও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক নিরীহ বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত অমানবিক হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে এ গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক নীতিই এর সঠিক সমাধান।’
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক, যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য আফেয়ার্স হেলেন লাফাভ, পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমদ মারুফ, অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নারদির সিম্পসন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রাকস্টার, ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. বিনয় জর্জ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ব্রেন্ড স্প্যানিয়ার, চীনের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ইয়ান হুয়ালং, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।









