দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সংযোগ সম্প্রসারণ, কলড্রপ সমস্যা সমাধান এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে গ্রামীণফোনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে গ্রামীণফোন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনা কম থাকলেও দেশের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে নেটওয়ার্ক সুবিধা পৌঁছে দেয়ার তাগিদ দেন মন্ত্রী।

‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ উদ্যোগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু এবং প্রথম পর্যায়ের সাফল্য উদযাপনের উদ্দেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও টেলিনরের অংশীদারত্বে গ্রামীণফোন এ উদ্যোগ পরিচালনা করছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. এমদাদ উল বারী।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, কলড্রপ ও ডাটা প্যাকেজ নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষ দূর করতে বিশেষ জোর দিতে হবে। ব্যবসার পাশাপাশি জনগণের চাহিদা ও মানসম্মত সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকৃত ডিজিটাল রূপান্তরের মানদণ্ড শুধু সংযোগ দিয়ে বিচার করা যায় না, বরং লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থান বা শারীরিক সক্ষমতা নির্বিশেষে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত হওয়াই মূল বিষয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব বলে মন্তব্য করে তিনি তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী জানান, নেটওয়ার্ক কাভারেজের পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা ও প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার জরুরি। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের উদ্যোগকে ভালো দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের এনভাররনমেন্ট হেড ফারহানা ইসলাম এবং ডিজিটাল ইনক্লুশন লিড তাজরিবা খুরশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ডিজিটাল সুযোগ প্রসারের ওপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, জিএসএমএ এর সিনিয়র মার্কেট এনগেজমেন্ট ম্যানেজার গগনদীপ মনচান্দা, টেলিনর এশিয়ার চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মনীষা ডোগরা, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমানের সঞ্চালনায় সুবিধাভোগী পিয়ালী সিনহা, শানু আক্তার, মোনালিসা আক্তার ইরিন ও অন্তরা আক্তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান কীভাবে এই কর্মসূচি তাদের ডিজিটাল দক্ষতাকে শক্তিশালী করে শিক্ষা, জীবিকা ও অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।

এই উদ্যোগের প্রথম ধাপে ৩২টি জেলায় ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে, যার ৬৮ শতাংশ নারী ও কিশোরী। ২০২৮ সালের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ৭০ শতাংশ থাকবেন নারী সুবিধাভোগী। প্রথম পর্যায়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার, সরকারি সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এবং আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।