চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে বঙ্গবন্ধু টানেলের নির্মাণকাজ। শুরুতে কাজের অগ্রগতি কম থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উদ্বোধন করতে কাজের গতি দ্বিগুণ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে মাসে ২ শতাংশ হারে। সর্বশেষ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ। যদিও ডিসেম্বরের আগে নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য বলছে, টানেল প্রকল্পের ভৌত কাজ শেষ হয়েছে ৯০ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগস্টে এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ দশমিক ১৬ শতাংশ। যদিও আগস্টে প্রকল্পটির ভৌতকাজ হয়েছে ২ শতাংশ। এর আগে প্রতি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি কাজ সম্পন্ন করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে মাসভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাড়তি অগ্রগতি সত্ত্বেও নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ ছাড়া টানেল প্রকল্পটি উদ্বোধন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, টানেল নির্মাণকাজের সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত। মূল বোরিং কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে দ্রুতগতিতে টানেলের কাজ এগিয়ে চলেছে। সর্বশেষ আগস্ট পর্যন্ত ৯০ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এক্ষেত্রে টানেলের নির্মাণকাজ শেষ করে বহুল প্রতীক্ষিত প্রকল্পটির উদ্বোধন ঠিক কোন মাসে হবে সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এ-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে মোট ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্মাণকাজ এখনো চলমান। উভয় টানেলের মধ্যে ফায়ার প্রুফ বোর্ড স্থাপনের কাজ এবং ওপেন কাট এরিয়ায় রেইন শেল্টার স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। দুটি টিউবের তিনটি সংযোগ পথের (ক্রস প্যাসেজ) কাজ চলমান রয়েছে। ক্রস প্যাসেজ ১-এর কাজ ৯৯ শতাংশ, ক্রস প্যাসেজ ২-এর ৮৪টি হোল ড্রিলিংয়ের কাজ এবং গার্ড ফ্রিজিংয়ের কাজ করে এক্সক্যাভেশনের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ক্রস প্যাসেজ ৩-এর কাজ শেষ হয়েছে ৯৯ শতাংশ।
এছাড়া দ্বিতীয় টানেল টিউবের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ স্ট্রাকচার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ২ হাজার ৪৫০ মিটার লেন স্লেভের ঢালাইয়ের কাজ ১০০ শতাংশ শেষ হলেও ২ হাজার ২৬৯ মিটার পেভমেন্ট স্লেভের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৯২ দশমিক ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে প্রথম টানেল টিউবের আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলেও ২ হাজার ৪৫০ পেভমেন্ট স্লেভের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৭৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সার্বিকভাবে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ ভৌতকাজ শেষ হতে অন্তত কয়েক মাস লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলছেন, টানেল নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ শেষ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে। এরই মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি কাজ হলেও বাকি কাজ শেষ করতে অন্তত তিন মাস সময় লাগবে। অন্যদিকে প্রকল্পের বাইরে অবকাঠামো-সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় টানেলের কাজ শেষ হলেই উদ্বোধন করা সম্ভব নয়।










