একই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো, দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনের মধ্যে বিনিময় জোরদার এবং বাংলাদেশের ওষুধ ও কৃষিপণ্য নিয়ে লাওসের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
গতকাল লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকে (এফওসি) এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওসের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনৌপার্ব ভংনরকেও যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
দুই দেশের ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৮ বছরের ইতিহাসে এটাই
প্রথম পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠক। বৈঠকটি উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাব্য পথ চিহ্নিত করা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন, কনস্যুলার সহযোগিতা এবং উচ্চ শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশ সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরো বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আরো কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে শ্রম সহযোগিতা বিষয়েও একটি এমওইউ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।
এছাড়া তরুণ কূটনীতিকদের মধ্যে বিনিময়, পর্যটন সহযোগিতা বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর মসৃণ রূপান্তর কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিনিময়ের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
কনস্যুলার বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশী সাধারণ পাসপোর্টধারীদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা সহজ করার জন্য লাওসের প্রতি অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। এতে লাওস ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা। দুই দেশই স্বীকার করেছে যে তাদের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম। এ অবস্থায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ বহুমুখী ও সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও লাওস। পাশাপাশি দুই দেশের জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিনিময় উৎসাহিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের ওষুধ ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা গভীর করার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে লাওস। ফলে প্রথম পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্যভিত্তিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক ফোরামে বিভিন্ন বিষয়ে লাওসের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে লাওসের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করা হয়।










