জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মাধ্যমে এ অর্থ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

অস্ট্রেলিয়া ও ইউএনএইচসিআরের এ অনুদানের ঘোষণা দেয়া হয় গতকাল। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহু সংস্কৃতিবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউএনএইচসিআরের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ নমনীয় ও বহুবর্ষী অর্থায়ন দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদাররা।

এ অর্থায়নের আওতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, ‘মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, ‘নতুন নতুন মানবিক সংকটের কারণে রোহিঙ্গা সংকট বৈশ্বিক মনোযোগ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থনের বার্তা দেয়।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, ‘রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেয়া এ সহায়তা নারী, কন্যাশিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুদান ঘোষণার আগে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর অবদান, নিয়মিত অভিবাসন সুযোগ সম্প্রসারণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে নিয়মিত ও অনিয়মিত অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, জ্বালানি ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছে। তাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে।