ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে খুলনার ছয়টি উপজেলায় প্রায় ১৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এখনো সেসব বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্টরা। সংস্কার না করায় জোয়ারে বাঁধ আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে দাবি উকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের। তারা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ মেরামত করা না গেলে আবারো ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে সংস্কার খরচও বাড়বে। যদিও স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও উঁচু করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন তারা।

উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে গেছে, প্রতি বছরই তারা ভাঙনের কবলে পড়েন। পরিকল্পিত ও স্থায়ী বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় ভাঙন দেখা দেয়। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন তারা।

এলাকাবাসী বলছেন, যখন জোয়ারের পানি বাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়, তখন স্বেচ্ছাশ্রমে তারা বাঁধ মেরামত করেন। তবে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেয় না কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে কাজের ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে মূল ঠিকাদার থেকে একাধিকবার হাতবদল হয়ে কাজ হয় নিম্নমানের। উপকূলে চিংড়ি চাষের কারণে যথেচ্ছভাবে বাঁধ কাটা হয়। চাষীরা বাঁধ ছিদ্র করে কৃষি জমিতে নোনা পানি তোলেন।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও কম খরচে প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় বেড়িবাঁধ টেকসই হচ্ছে না।

কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম বাহারুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের কোনো স্বচ্ছতা নেই। কোথায় কাজ করে, কী কাজ করে, কত টাকার কাজ করে, তা স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধি কেউ-ই জানেন না। নিজেদের পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে দায়সারা কাজ করছেন। আর জনগণ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধ রক্ষায় কাজ করেন । এতে লাভ হয় ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা ডিভিশন-২ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমালে কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটার (একাংশ) ৯৫ স্থানের প্রায় ১৭ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ডিভিশন-১-এর আওতাধীন ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও তেরখাদায় ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারে ১৩ কোটি টাকা প্রয়োজন। বরাদ্দ চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু হবে। ঘূর্ণিঝড় রেমালে আটটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এর মধ্যে পাইকগাছার দেলুটিসহ ছয়টি স্থানের বাঁধ মেরামত শেষ হয়েছে। কয়রার দশহালিয়া এবং দাকোপের কামিনিবাসিয়া ও বটবুনিয়ায় ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান জানান, ডুমুরিয়ার শরাফপুর, চাঁদগড়, বটিয়াঘাটার জলমা, সুরখালি এবং তেরখাদার পারহাজী গ্রামে ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে বাঁধ সংস্কার না করায় কয়রার দশহালিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ছয়দিন ধরে জোয়ারের পানিতে ডুবছে। দাকোপের কামিনিবাসিয়াসহ আশপাশের পাঁচ-ছয়টি গ্রাম জোয়ারের সময় প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে খাবার, ওষুধ ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন খামারিরা।