প্রায় এক যুগ আগে ফরিদপুরের সালথায় উপজেলার মালঞ্চ বিলের সংযোগ খালে নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। উপজেলার গোট্রি ও আটঘর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের সংযোগ স্থাপন করেছিল সেতুটি। পাঁচ বছর আগে পানির চাপে সেতুটির উভয় প্রান্তের মাটি সরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংযোগ সড়ক। তবে তা সংস্কার না করায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সেতু দিয়ে পণ্য পরিবহনকারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুই ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলে ১২ বছর আগে মালঞ্চ বিলের ওপর ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দুই পাশে মাটি কেটে নির্মাণ করা হয় সংযোগ সড়ক। পরে ওই রাস্তায় ইট বিছিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়। পাঁচ বছর আগে বিলের পানির চাপে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এর পর থেকে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাল ও বিলের উত্তর পাড়ে অবস্থান আটঘর ইউনিয়নের। খোঁয়াড়, গোয়ালপাড়া, সেনহাটি ও ভাবুকদিয়া গ্রামসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ সেতুটি ব্যবহার করে। কৃষিপণ্য সালথা উপজেলা সদরে বাজারজাত করা হয় সেতু দিয়ে কিন্তু সেতুটির উভয় প্রান্তে সড়কের সংযোগস্থলে মাটি না থাকায় তারা ব্যবহার করতে পারছেন না। ১০ কিলোমিটার ঘুরে বাজারে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এছাড়া সেতুটির দক্ষিণ পাড়ে সিংহপ্রতাপ, নারানদিয়া ও মেম্বারগট্টিসহ সাতটি গ্রামের অবস্থান। এসব গ্রামের মানুষের জমি রয়েছে সেতুর উত্তর প্রান্তের আটঘর ইউনিয়নে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি।

স্থানীয় কৃষক রবিউল আলম, সিরাজ মাতুব্বর, পথচারী জলির মোল্লা ও রশিদ হালাদার বলেন, ‘আগে আমরা পাট-ধান ও পেঁয়াজ মাথায় করে বাজারে বিক্রি করেছি। মালঞ্চ বিলের ওপর সেতু হওয়ায় কয়েক বছর মাথায় করে নিয়ে বাজারে ফসল বিক্রি করতে হয়নি। ভ্যান, শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নসিমন ও গাড়ি করে কৃষিপণ্য বাজারজাত করেছি।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগের সালথা উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক সংস্কার জরুরি। আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুত সংস্কার করার জন্য। এরই মধ্যে সংস্কারের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।’