দেশের বিভিন্ন জেলায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) বজ্রপাতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে দুইজন, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, পটুয়াখালী ও রংপুরে একজন করে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত :

ময়মনসিংহ : তারাকান্দায় রাংসা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতী গ্রামের চৌরাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সাদ্দাম হোসেন (২৮) একই গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানবীর আহম্মেদ।

তিনি বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির পাশে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান সাদ্দাম হোসেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

জামালপুর : জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে মো. শামীম মিয়া (৩৭) ও সাগর ইসলাম (১৮) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সকালে উপজেলার গাইবান্ধা ও সাপধরি ইউনিয়নে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মৃত্যু হয় তাদের। নিহত শামীম মিয়া গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তর বাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে। আর সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুনিয়াপাড়া এলাকার স্বাধীন ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে শামীম মিয়া দশানী নদীতে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরদিকে সাপধরি ইন্দুল্লামারি এলাকায় সড়কে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাগর ইসলাম।

রাজবাড়ী : উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রমজতকোল গ্রামে বজ্রপাতে সুমন আহমদ নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কোলে থাকা চার বছরের মেয়ে ছিটকে পড়ে প্রাণে বেঁচে যায়। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন একই গ্রামের সাদ্দিক মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা শয়ন সিকদার জানান, সুমন একটি এনজিওতে চাকরি করতেন। এক মাস যাবৎ তিনি বাড়িতেই ছিলেন। সকালে তার মেয়েকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে সওদা কিনতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তার মেয়ে কোলে থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে সামান্য আহত হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সুমন। শিশু সাফিয়া বর্তমানে সুস্থ আছে বলে জানান তিনি। রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।

রংপুর : তারাগঞ্জে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যেই ওই গৃহবধূ দুপুরের রান্না করার জন্য বাড়ির পাশে খড়ি সংগ্রহ করতে যান। সেখানে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম সাহেরা বেগম (৪০)। তিনি কাজীপাড়া গ্রামের মজিবর হোসেনের স্ত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মনছুর পাঠোয়ারী বলেন, দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে বাইরে ওই গৃহবধূ বের হওয়ায় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারাগঞ্জ থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বজ্রপাতে গৃহবধূর মুত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় কালবৈশাখি ঝড়ের সময় গরু বাঁধতে গিয়ে বজ্রপাতে সৌরভ মজুমদার (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সৌরভ ওই গ্রামের শাহ আলম মজুমদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের ফসলের মাঠে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য বাঁধতে যান সৌরভ। তখন বিকট শব্দে আকাশে বিজলি চমকালে সেখানে বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগে সৌরভ প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন। এমন সময়ে তার অকালমৃত্যুতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সকালের দিকে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। আর সেই বজ্রপাতেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমাদের অফিসার পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবার যেভাবে চাইবেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সেভাবেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।