সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভদ্রাবতী খাল খনন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের দক্ষিণ ভদ্রাবতী ও তালম ইউনিয়নের উত্তর ভদ্রাবতী এলাকায় ২৭ কিলোমিটার খালটি খনন করা হয়েছে।

খাল খননের উদ্দেশ্য হলো, ভূর্গভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে খালের দুই পাশে কৃষিজমি সেচের আওতায় নিয়ে আসা। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিতদের অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে লেবার কন্টাক্টিং সোসাইটির (এলসিএস) মাধ্যমে স্থানীয় সুবিধাভোগী ৪৪টি এলসিএস সমিতির ১ হাজার ১১৫ সদস্যের অংশগ্রহণে কাজটি করা হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বিলে জমাকৃত পানি খালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্কাশন হবে। ফলে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে এলাকার শত শত হেক্টর জমি।

কলামুলা গ্রামের আবদুর রহমান বলেন, ‘ভদ্রাবতী খালটি খনন করায় বর্ষা মৌসুমে বিলে জমাকৃত পানি খালের মাধ্যমে দ্রুত নেমে যাবে। এতে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে শত শত হেক্টর জমি। আবার শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি দিয়ে জমি আবাদের সুবিধা পাবেন কৃষক।’

এলসিএস সমিতির সভাপতি লিজা খাতুন ও তৌহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অসচ্ছল মানুষ দিয়ে খাল খননকাজ করানোর ফলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভদ্রাবতী খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। এখন খনন করার কারণে বন্যার পানি যেমন দ্রুত নেমে যাবে, সেই সঙ্গে দুই পাশের জমি সেচের আওতায় আসবে।’

তালম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম ও বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজনু মিয়া বলেন, ‘চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ভদ্রাবতী খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। খাল খননের কারণে বিলের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে আবাদ করার সুবিধা পাবেন কৃষক। এতে অনেকটা উৎপাদন খরচ বাঁচবে এ অঞ্চলের কৃষকের।’

সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকার খাল, বিল, নদী খনন করে প্রবহমান করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভদ্রাবতী খালটি খনন করা হচ্ছে। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অনেক নদী ও খাল প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে বন্যার সময় বিল এলাকায় পানি উপচে পড়ে। কোথাও পানি আটকা পড়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা করে বোরো ধানসহ নানা ফসল আবাদ করতে হচ্ছে। এ কারণে কৃষক উভয় দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভদ্রাবতী খালটি খননের কারণে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে আবাদ করায় কৃষকের সেচ খরচ বাঁচবে।’