প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে কী শিখছে এবং নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কিনা তা নিয়মিত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, পাঠদান কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে।’
গতকাল পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতটুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে লার্নিং টয়েস বা শিখন উপকরণ বিতরণ করেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শিখন দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের মৌলিক শিখন দক্ষতা (ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি—এফএলএন) যাচাই করেন।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে ববি হাজ্জাজ দেখেন, লার্নিং টয়েস ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন ধারণা ও বিষয় সহজে বুঝতে পারছে। শ্রেণীকক্ষে প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো কোনো বিষয় বুঝতে সময় লাগলেও খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণের মাধ্যমে তা তুলনামূলক সহজে অনুধাবন করতে পারছে তারা। এ ধরনের উপকরণ শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় অবকাঠামো, শ্রেণীকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান পদ্ধতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখনদক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতার ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রেণীভিত্তিক শিখনফল যাচাই এবং শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লার্নিং টয়েসসহ কার্যকর শিখন পদ্ধতিগুলো আরো বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরো কার্যকর হবে।’
দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে।










