সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) পাহাড়ে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া জঙ্গিদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হওয়া সাত জঙ্গি ও কেএনএফের তিন সদস্যকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়ার আমিরসহ শূরা কমিটির ছয়জনের নাম জানা গিয়েছে।
গতকাল বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফের প্রতিষ্ঠাতা নাথান বমের সঙ্গে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়ার আমির আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। তখন থেকে জামাতুল আনসারের সদস্যদের ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয় কেএনএফ। চুক্তি অনুযায়ী, জামাতুল আনসার প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা ও কেএনএফের সব সদস্যের খাবার খরচ বহন করত। ২০২১ সাল থেকে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় কেএনএফের একাধিক ক্যাম্পে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জামাতুল আনসারের ৫০ জনের অধিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, এর আগে হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি ও আনসার আল ইসলামের বেশকিছু সদস্য ২০১৭ সালে নতুন একটি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করে। পরে ২০১৯ সালে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া (পূর্বাঞ্চলীয় হিন্দের জামাতুল আনসার) নামে নামকরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে তারা। এ সংগঠনের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কোমলমতি তরুণদের টার্গেট করত। তাদের নানা ভিডিও ও ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করে সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতির জন্য পটুয়াখালী ও ভোলার বিভিন্ন চর এলাকায় শারীরিক কসরত ও জঙ্গিবাদবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিত। এছাড়া আত্মগোপনে থাকার কৌশল হিসেবে রাজমিস্ত্রী, রঙমিস্ত্রী, ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন পেশার কারিগরি প্রশিক্ষণও দিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া তরুণের সংখ্যা ৫০-এর অধিক। যার মধ্যে ৩৮ জনের নাম-ঠিকানা এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেই বর্তমানে পার্বত্য কেএনএফের ছত্রচ্ছায়ায় দুর্গম এলাকায় আত্মগোপনে থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, বিভিন্ন নাশকতা ও সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনাসহ সংগঠনটির বিভন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিরা হলো সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার সৈয়দ মারুফ আহমদ ওরফে মানিক (৩১), পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার ইমরান হোসাইন ওরফে শাওন (৩১), ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানার কাওসার ওরফে শিশির (৪৬), সিলেটের বিয়ানিবাজার থানার জাহাঙ্গীর আহমেদ ওরফে জনু (২৭), বরিশালের মুলাদি থানার মো. ইব্রাহিম ওরফে আলী (১৯), সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে বাপ্পি (২৩), সুনামগঞ্জের চাতক থানার রুফু মিয়া (২৬)।
গ্রেফতার কেএনএফের সদস্যরা হলো বান্দরবানের রোয়াংছড়ির থানার জৌথান স্যাং বম (১৯), ওই উপজেলার স্টিফেন বম (১৯) ও মালসম বম (২০)।
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নয়টি এসবিবিএল কার্তুজ বন্দুক, একটি দেশীয় পিস্তল, ৫০টি গুলি, ৬২টি কার্তুজের খাপ, ছয়টি ইমপ্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), একটি ওয়াকিটকি, একটি ক্যামেরা ও ইউনিফরমসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।










