কয়েক দশকে শুধু যশোর শহর ও শহরতলিতে ভরাট হয়েছে শতাধিক পুকুর-দীঘি। পৌরসভার মধ্যে এক ডজন পুকুর ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল ভবন। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে একের পর এক পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। বিলের জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে আবাসন প্রকল্প করা হচ্ছে। গতকাল বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জনউদ্যোগের নেতারা।

প্রাকৃতিক জলাধার ও কৃষিজমি সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ যশোরে আহ্বায়ক প্রকৌশলী নাজির আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা ও জনউদ্যোগের সদস্য মাহবুবুর রহমান মজনু।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যশোর পৌরসভায় ৩২০টি জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভার ছয়টি, জেলা প্রশাসনের ৪০টি এবং বেসরকারি ২৭৪টি পুকুর রয়েছে। ১০-১২ বছর আগে পুকুরের সংখ্যা আরো বেশি ছিল। শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রায় সব পুকুর অস্তিত্ব হারিয়েছে। শহরের ভেতরে থাকা আরো কিছু পুকুর এখন সমতল ভূমি। প্লট আকারে বিক্রিও হচ্ছে। সম্প্রতি বারান্দিপাড়া এলাকার একটি পুকুর এবং চাঁচড়া এলাকার একটি পুকুরও ভরাট করা হচ্ছে। শুধু জলাধার নয়, যশোরের হরিণার বিলসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে একের পর কৃষিজমি গ্রাস করা হলেও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

নেতারা বলেন, হরিণার বিল মূলত ধান আবাদি এলাকা। এটি যশোরের শস্যভাণ্ডার। বিলের আয়তন ৫০৭ হেক্টর। আবাদি জমি রয়েছে প্রায় ৪৮৫ হেক্টর। বর্ষা মৌসুমে বিলে দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া যায় প্রচুর ও ধানের আবাদও হয়। ধান ছাড়াও বিলের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। বিলের ভাতুড়িয়া সড়ক, মাহিদিয়া সড়কের বিভিন্ন এলাকা ভরাট করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে বছরের বেশির ভাগ সময় বিলটি জলাবদ্ধ থাকছে। জনউদ্যোগ নেতারা পুকুর ভরাট ও আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জনউদ্যোগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক সুরাইয়া শরীফ, ধনঞ্জয় বিশ্বাস, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন প্রমুখ।