সম্প্রতি
সংস্কার শেষে খুলে দেয়া হলেও কিন ব্রিজের ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে ৯০ বছর আগে
নির্মিত ১ হাজার ১৫০
ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতু শুধু
দেশের নয়, এশিয়ারও অন্যতম দীর্ঘ পদচারী সেতুতে রূপ পাবে। এখন থেকে শুধু হেঁটে পারাপারে ব্যবহৃত হবে সেতুটি যা দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও ভিড় করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, কিন ব্রিজ সংস্কারের বিষয়ে ২০২০ সালে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়। সেখানে সেতু সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়া হয়। পরে সওজের পক্ষ থেকে সেতুটি সংস্কারে মন্ত্রণালয়ের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় সিলেটের সওজ। একই বছরের জুনে বরাদ্দের টাকা রেলওয়ের সেতু বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তবে নানা জটিলতায় সংস্কারকাজ হচ্ছিল না। পরে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ ১৬ আগস্ট কিন ব্রিজের মেরামত, নবায়নসহ নির্মাণকাজের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুই মাস যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর পথচারীদের চলাচল বন্ধ করতে সেতুটির দুই পাশে টিনের বেড়া দেয়া হয়। কিন্তু ১৫ অক্টোবর পেরিয়ে গেলে মেরামতকাজ শেষ না হওয়ায় আবার ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেরামতকাজের সময় বর্ধিত করা হয়। সেটি পেরিয়ে গেলে আবার ১ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফায় সময় ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। অবশ্য বর্ধিত তিন দফা মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করা হয়।
সিলেট সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কিন ব্রিজের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। এখন আমরা ব্রিজটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেব। তবে ব্রিজটি শুধু পায়ে হেঁটে চলার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। কারণ ব্রিজটির সংস্কার করতে গিয়ে দেখা গেছে এটি আর যান চলাচলের উপযোগী করা যাবে না। ব্রিজ দিয়ে এখন যান চলাচল করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই ঐতিহ্যবাহী ব্রিজকে টিকিয়ে রাখতে এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। আমরা ট্রাফিক বিভাগকে পরিবহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জানিয়েছি। সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকেও সে বিষয়ে অবহিত ও ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। যান চলাচলের অনুমতি দিলেই সেতুতে চলাচলকারী জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আগে যান চলাচল বন্ধ রাখা হলেও নানা কারণে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি।’










