আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী ইতি খানমকে (২০) নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন স্বামী। রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলেন তিনি। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত পাঁচ দিনেও হাসপাতালে কোনো স্বজন তাকে দেখতে আসেনি।
ইতি খানম নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে হারুন অর রশিদের মেয়ে। এ উপজেলার ইতনা গ্রামের একই গ্রামের বাসিন্দা মামাতো ভাই তিতাস কাজীর (৩০) সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে তার বিয়ে হয়। তিতাস ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। এর আগে তিনি তিনটি বিয়ে করেছেন। দুই স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। একজন মারা গেছেন।
ইতির পরিবার জানায়, এক বছর ধরে ইতিকে তার স্বামী প্রায়ই নির্যাতন করে। গত ১ জুন তালাক দেয়ার জন্য তার স্বামী বাড়িতে কাজি ডেকে আনেন। তালাকনামায় স্বাক্ষর না করায় ইতিকে সারাদিন মারধর করে বিকালে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সন্ধ্যায় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার শ্বশুর বাড়ির পরিবার খুব প্রভাবশালী। পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে বিয়ে করে দুই বছর আগে। বিয়েতে মেয়েটি রাজি না হয়ে আত্মীয় বাড়ি গিয়ে পালায়। সেখান থেকে ধরে এনে তাকে বিয়ে দেয়া হয়।
ইতির বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব খারাপ। হাসপাতালে দেখতে গেলে বা তার খোঁজখবর নিলে আমাদের ওপর যে চাপ আসবে তা সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই মেয়েটির খোঁজ নিতেও যাইনি।
তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইতি বলেন, আমি এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার বাবার বাড়ি থেকে তাকে তালাক দিতে বলে। আমি এতে রাজি না হওয়ায় বাবার বাড়ি থেকে আমার খোঁজ নিচ্ছে না। শ্বশুরবাড়ি থেকেও তালাক দিতে চায়। কিন্তু আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। হাসপাতালে আসার পর আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন আমার খোঁজ নেয়নি। আমি এখন কোথায় আশ্রয় পাবো!
এ ব্যাপারে কথা বলতে ফোন করলে ইতির স্বামী তিতাস কাজীর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ইতিকে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার শ্বশুরবাড়ি তালাবদ্ধ। ঘটনার পর তারা পালিয়েছে। তার স্বামীকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।










