ঝালকাঠি-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ভাণ্ডারিয়ার রাধানগর পর্যন্ত খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কাঁঠালিয়া থেকে ভাণ্ডারিয়া সীমানা পর্যন্ত সড়কটির অংশজুড়েই খানাখন্দ থাকায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পথচারী, যানবাহনচালক ও যাত্রীদের। এসব গর্তে বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মসজিদের সামনের সড়কে বড় একটি গর্ত। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দিনরাত সড়ক দিয়ে বিভিন্ন রুটের যানবাহন ও লোকজন চলাচল করে।

কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা শিক্ষক মো. মহসীন খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড মসজিদের সামনে বড় একটি গর্ত হয়ে পুকুরে পরিণত হয়েছে। এতে পানি আটকে থাকায় গাড়ি ও পথচারীদের চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় বড় গাড়ি গর্তে আটকে থাকতে দেখা যায়।

ইজিবাইকচালক মহিদুল ইসলাম বলেন, কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ভাণ্ডারিয়া পর্যন্ত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে অনেক দিন থেকে বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। যে কারণে অটো চালাতে অনেক সমস্যা হয়। অনেক সময় গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের প্রয়োজন।

এ সড়কে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক আলতাফ, লিটন, নূর মোহাম্মাদসহ অনেকে বলেন, কাঁঠালিয়া থেকে ভাণ্ডারিয়া যাওয়ার জন্য যাত্রীদের মোটরসাইকেল অথবা ইজিবাইক ব্যবহার করতে হয়। সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে ভাণ্ডারিয়া পর্যন্ত রাস্তার মধ্যে  অনেক গর্ত। এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে খুব ভোগান্তি হয়।

পথচারী মো. মেহেদী হাসান বলেন, কাঁঠালিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ডে এমন জনদুর্ভোগ খুব দুঃখজনক। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাসস্ট্যান্ডের বড় গর্তে পানি আটকে থাকে। এতে চলাচলে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এছাড়া কাঁঠালিয়া থেকে ভাণ্ডারিয়া যেতে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হওয়ায় চলাচল করতে ভোগান্তির শিকার হতে হয় স্থানী মানুষকে। যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বদু সিকদার বলেন, কাঁঠালিয়া থেকে ভাণ্ডারিয়া পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগ হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত মেরামত বা সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হাসান জানান, আমুয়া-কাঁঠালিয়া-ভাণ্ডারিয়া সড়কের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এখন আমুয়ায় কাজ চলছে। কাঁঠালিয়া থেকে ভাণ্ডারিয়া অংশের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু হবে।