বৈশ্বিক চাহিদা পূরণ, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ত্বরান্বিতকরণ এবং টেকসই পোশাকের শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ক এক আলোচনার আয়োজন করেছে এইচএসবিসি, এআইআই, সুইডিশ দূতাবাস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সভায় সরকারের মন্ত্রণালয়, বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধি সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ডিকার্বনাইজেশন এবং বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান টেকসই পরিবেশগত শর্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ রেখে বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ উইং প্রধান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এ কে এম সোহেল, সুইডিশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওলে লুনদিন, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাহবুব উর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সারওয়ার হোসেইন, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি বিদ্যা খান, এআইআইয়ের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিল্হাস, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের কিম হেলস্ট্রম এবং এটিটিআইয়ের অলিভিয়া উইন্ডহাম স্টুয়ার্ট-সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
আলোচনায় বলা হয়, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্প্রসারণ শুধু পরিবেশগত দায়িত্বই নয়, এটি বাণিজ্যিক সক্ষমতা বৃদ্ধিরও বড় সুযোগ। নির্ভরযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির সহজলভ্যতা কারখানাগুলোর কার্বন নিঃসরণ এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে সহায়তা করবে, যা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আরো সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
মূল বক্তব্য অধিবেশনে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরেন অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউটের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিল্হাস। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক খাতে ৫০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
এইচএসবিসি হোল্ডিংস পিএলসির গ্লোবাল সাসটেইনেবিলিটির গ্লোবাল হেড অব ক্লিন পাওয়ার সিস্টেমস র্যানডলফ ব্রেজার এবং এইচএসবিসির এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাসটেইনেবিলিটি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান জাস্টিন উ বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মতামত উপস্থাপন করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় বাজার ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন যেহেতু সীমিত-কার্বন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব সুদৃঢ় হওয়ার সঙ্গে জ্বালানি রূপান্তরের বাণিজ্যিকায়ন এখন সময়ের দাবি। সহায়ক নীতি, উন্নয়নশীল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করাই হবে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার মূল চালিকাশক্তি।
আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গোলটেবিল বৈঠকটি সমাপ্ত হয়।










