নির্বাচনের আগে ভোটারদের অর্থ বিতরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কমিশন বিষয়গুলো দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়াসহ অন্যরা।

ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। সে লক্ষ্যেই দলের প্রার্থী ও এজেন্টদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত না হয়। তিনি আরো বলেন, এ কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন যেন আইনানুগ ভূমিকা পালন করে, সে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, মিডিয়ায় আমরা দেখছি—লাখ লাখ নারীর জন্য বিশেষ কাপড় তৈরি হচ্ছে, ব্যালট পেপার ছাপানো হচ্ছে, এমনকি এসব সরঞ্জামসহ লোকজন ধরা পড়ছে। অথচ নির্বাচন কমিশন এসব দেখার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এসব ঘটনা নির্বাচনের দিন দেখার বিষয় নয়, বরং আগেই এগুলো কমিশনের নজরে আসা উচিত ছিল। তিনি বলেন, গোয়েন্দাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী এখন নির্বাচন কমিশনের অধীন। তাহলে কেন এসব আগেই জানা যাচ্ছে না?’

মাঠ প্রশাসন নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কোন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কোন দলের—এ ধরনের খবর প্রকাশ হচ্ছে। এটি গুজবও হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে কর্মীদের উসকানি দেয়ার চেষ্টা হতে পারে। আমরা এটিকে গুজব হিসেবেই দেখতে চাই। তবে নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো কর্মকর্তার ভূমিকা কোনো বিশেষ দলের পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট না হয়। এ ধরনের কিছু নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। একদিন বাকি আছে। আশা করছি কোনো সমস্যা হবে না। যারা নির্বাচন চায় না, তারা নির্বাচনে নেই। আর যারা নির্বাচনে আছে, সবাই মিলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।