ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা সদরের শান্তিনগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হয়নি ১৫ বছরেও। বছরের সাত মাস জলাবদ্ধ থাকে ওই এলাকা। ফলে চরম ভোগান্তি আর কষ্টে থাকতে হয় বাসিন্দাদের। বর্ষা মৌসুমে এ কষ্ট দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বর্তমানে সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে ওই এলাকার পরিবারগুলো। তার পরও সার্বক্ষণিক সাপের ভয়, শিশুদের পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে পরিবারগুলোতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বারবার বলা হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেউ। প্রায় ২০০ পরিবার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এ জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। তবে এ বছর ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষায় সড়কের পাশে পানিপ্রবাহের জায়গা ভরাট ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে তৈরি হয় স্থায়ী জলাবদ্ধতার। বছরের সাত মাসই নোংরা পানির সঙ্গে দিন কাটে শান্তিনগরের বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিনেও জলাবদ্ধতার নিরসন না হওয়ায় অনেক পরিবার চলে গেছে অন্য জায়গায়। আর যারা আছে ভোগান্তি যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কষ্টের শেষ নেই। নোংরা পানি আর কাদা মাড়িয়ে যেতে অনেক সময় স্কুল ড্রেস ময়লা হয়ে যায়। কখনো কখনো দুর্গন্ধের কারণে নাকে রুমাল ধরে চলাচল করে বাসিন্দারা। গর্ভবতী নারী, রোগী কিংবা বৃদ্ধরা আরো কষ্টে আছে। চর্মসহ পানিবাহিত রোগগুলো এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গী। এলাকায় মাঝে মাঝে দেখা দেয় ডায়রিয়া। এক পরিবারে ডায়রিয়া হলে ছড়িয়ে পড়ে অন্য পরিবারগুলোতে।
শান্তিনগরের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক বিনয় কুমার দত্ত জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় পানি জমে। পানির মধ্যেই কষ্ট করে দিন পার করতে হয়। কোনো মালামাল আনা-নেয়া করা যায় না, কোনো রোগী নেয়া যায় না। আত্মীয়স্বজন কেউ আসতে পারে না। বছরের ছয়-সাত মাস আমাদের পানিবন্দি থাকতে হয়। অনেক সময় মেয়েদের ভালো বিয়ের ঘর এলেও পানি সমস্যার কারণে চলে যায়।
শান্তিনগরের আরেক বাসিন্দা কৃষ্ণা দত্ত জানান, আমি একজন হার্টের রোগী। আমাকে চেকআপের জন্য ডাক্তার দেখাতে নিয়মিত ময়মনসিংহে যেতে হয়। কিন্তু এ পানির কারণে আমি বাসা থেকে বের হতে পারি না। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। যদি পা পিছলে পড়ে যাই তাহলে আর উঠতে পারব বলে মনে হয় না।
উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের বাসিন্দা আনিছুর রহমান জানান, শান্তিনগর এলাকায় প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস। ওই এলাকা মানুষের বসবাসের উপযোগী নেই। শুধু জলাবদ্ধতার কারণে তাদের দুর্ভোগ, কষ্ট। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার। একটি ড্রেন নির্মাণ হলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। ব্যবসায়ী রাম সরকার জানান, এখানে মন্দির আছে। আমরা কেউ এ নোংরা পানির জন্য ছয়-সাত মাস মন্দিরে গিয়ে উপাসনা করতে পারি না।
তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, এ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছে। শান্তিনগরের জলাবদ্ধতা দূর করতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে। কিছুটা সমস্যা দূর করা হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা হবে। স্থানীয়ভাবে ড্রেন নির্মাণ করা হবে।










