মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধভাঙা পানি ফুলগাজী হয়ে ছাগলনাইয়ার দিকে আসতে শুরু করেছে। বুধবার রাতে ফেনী-ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর দিয়ে পানি গড়াতে শুরু করেছে। এতে করে ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রেজুমিয়া, কাশিমপুর, নিজপানুয়াসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, ফুলগাজী ও পরশুরামের বাঁধভাঙ্গা পানির স্রোত এবার ছাগলনাইয়া উপজেলা এবং ফেনী সদর উপজেলার দিকে আসতে শুরু করেছে। বুধবার রাত থেকে এসব নতুন নতুন এলাকায় পানি বাড়তে শুরু করে।
বৃহস্পতিবার সকালে ফেনী ছাগলনাইয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঠাননগর ইউনিয়নের রেজুনিয়া অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। এ সড়কের কোথায়ও এক ফুট কোথাও দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি গড়িয়ে যাওয়ার কারণে ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়ন, সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়ন, ছনুয়া ইউনিয়ন ও ফাজিলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এসব এলাকার পুকুর ভেসে গেছে। তবে ফুলগাজী উপজেলায় বাঁধভাঙা পানির চাপ কমতে শুরু করেছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।

এর আগে, সোমবার থেকে ভারি বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে ফুলগাজী ও পরশুরামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২০টি স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এরইমধ্যে প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। দূর্গ এলাকায় দূর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফেনী থেকে ফুলগাজী-পরশুরামে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে।















