নরসিংদীর বেলাবোতে নদীতে ডুবে তিন শিশু বান্ধবীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ৯টার দিকে বীরাকান্দা এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শিপা, ঝুমা ও হালিমা—তিন বান্ধবী। রোববার দুপুর থেকেই তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এলাকার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে অবশেষে রাতে তাদের পাওয়া গেল। তবে ফুটফুটে তিন শিশুর দেহে ছিল না প্রাণ। আড়িয়াল খাঁ নদে ভাসছিল তাদের মরদেহ। রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। এক সঙ্গে তিন বান্ধবীর মৃত্যুতে বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের বীরকান্দা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বীরকান্দা গ্রামের কাশেম মিয়ার মেয়ে ঝুমা আক্তার (৮), প্রবাসী কাউসার মিয়ার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শিপা আক্তার (১০) ও মৃত ফারুক মিয়ার মেয়ে হালিমা (৮) এক সঙ্গেই থাকত সবসময়। এর মধ্যে শিপা বীরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে, ঝুমা একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে ও হালিমা বীরকান্দা মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ত। রোববার দুপুরে বৃষ্টি হয়েছিল। এ সময় তিন বান্ধবী বাড়ির পাশে আড়িয়াল খাঁ নদ দেখতে যায়। দিলীপের গোদারাঘাট নামক স্থানে তাদের দেখেছিল স্থানীয় কয়েকজন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নদে নেমে তারা ডুবে যায়।

শিপার বাবা কাউছার মিয়া ও ঝুমার বাবা কাশেম মিয়া জানান, তিন শিশুর কেউই সাঁতার জানত না। স্থানীয় ইউপি সদস্য আঙ্গুর মিয়া বলেন, খোঁজাখুঁজি করে দিলীপের গুদারাঘাট নামক স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। 

এদিকে একসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। নিহত শিশুদের দেখতে আসা লোকজনও হতবিহ্বল হয়ে পড়ে।

বিন্নাবাইদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা বলেন, এমন ফুটফুটে তিনটি শিশু নদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না। নদে এখন তেমন স্রোত না থাকলেও মাঝখানের গভীরতা প্রায় ১০ ফুটের মতো হবে। হয়তো ওই তিন শিশু গোসলে নেমে নদের মাঝখানে যাওয়ার পর আর ফিরে আসতে পারেনি। সেখানে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই মরদেহগুলো উদ্ধার করে এলাকাবাসী। পরিবারের আপত্তি ও অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে গতকাল দুপুরে বিন্নাবাইদ কবরস্থানে দাফন করা হয় তিন বান্ধবীকে।