চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির জন্য হাহাকার দেখা দেয়।
জানা গেছে, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া, করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখীল, নলখো, কয়লা, কালাপানিয়া ও হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসূলপুর আবাসনে তীব্র পানির সংকট। এসব পাড়ায় প্রায় ৪০০ পরিবারে ২ হাজার ৫০০ ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করছে। কিছু পরিবারের কাছে নলকূপ থাকলেও অধিকাংশ আদিবাসী কুয়া ও সচ্ছল পরিবারগুলো থেকে মাসিক ভিত্তিতে পানি কিনে ব্যবহার করে।
মিরসরাই সদর ইউনিয়নের তালবাড়িয়া আদিবাসী পাড়া সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় ১৩০টি পরিবারে প্রায় ৭০০ আদিবাসী বসবাস করছে। চার বছর আগে সেখানে উপজেলা পানি ব্যবস্থাপনা ফোরামের সভাপতি ডা. জামশেদ আলমের উদ্যোগে ১৩টি কুয়া স্থাপন করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে তিনটিতে পানি পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি রিং টিউবওয়েল দেয়া হয়েছিল। সেটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এখন ওই পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট বলে জানান স্থানীয় সুরেন্দ্র ত্রিপুরা।
অন্যদিকে করেরহাট ইউনিয়নের সাইবেনীখীল পাড়ায় ৮০টি আদিবাসী পরিবারে পাঁচ শতাধিক লোকের বাস। ওই পাড়ায় প্রায় ৩৫ জনের কাছে টিউবওয়েল থাকলেও বাকিদের কাছে নেই। তাই তারা টিউবওয়েল থাকা প্রতিবেশীর কাছ থেকে মাসিক ৫০-১০০ টাকায় বিশুদ্ধ পানি কিনে নেন বলে জানিয়েছেন ওই পাড়ার বাসিন্দা ঊষা ত্রিপুরা।
এছাড়া নলখো পাড়ায় ১১০টি আদিবাসী পরিবার রয়েছে। সেখানে প্রায় ৭০০ মানুষ বসবাস করে। নলখো পাড়ায় প্রায় ৪৫-৫০টি পরিবারের নলকূপ রয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) স্থাপন করায় খাওয়ার জন্য পাড়ার লোকজন এখন সেটির পানি ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা কমল ত্রিপুরা।
এদিকে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসূলপুর এলাকায় ২০টি আদিবাসী পরিবারকে পুনর্বাসন করেছে সরকার। খাসজমিতে একটি আবাসন প্রকল্পে ঘরের পাশাপাশি দুটি গভীর নলকূপ ও একটি শ্মশান দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুটি গভীর নলকূপের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে প্রায় এক বছর।
উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ বণিক বার্তাকে জানান, আদিবাসী পাড়াগুলো পাহাড়ে হওয়ায় গভীর নলকূপ দেয়া যায় না। তাই রিং টিউবওয়েলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পানির সংকট নিরসন করা হচ্ছে।










