উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দেয়ার লক্ষ্যে আজ পঞ্চগড়ে এক হাজার শয্যার নর্থ পয়েন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর এবং নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। তবে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক বিধবা ও তার এতিম সন্তানদের দুই বিঘার বেশি  জমিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে বালি ভরাটসহ নির্মাণকাজ করার অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সৈয়দা আনোয়ারা বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড় সদর উপজেলার দারিয়াপাড়া এলাকায় আমার প্রয়াত স্বামীর কেনা ১ একর ২০ শতক জমি ভোগদখল করে আসছিলাম। এর মধ্যে ৫০ শতক জমি এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বিক্রি করা হয়। বাকি ৭০ শতক জমি ওই এলাকার আলম হোসেন নামে এক চাষীকে বর্গা দেয়া হয়। ২০২২ সালের ১২ জুন জাহাঙ্গীর আলম রানা নামের এক ব্যক্তি নর্থ পয়েন্ট মেডিকেল কলেজের পরিচালক পরিচয় দিয়ে তার লোকজন নিয়ে জমিটি দখল করে নেন। পরে সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে মাটি ভরাট করা হয়। এ সময় ওই জমিতে বাধা দিতে গেলে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। পরে আদালতে ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নিষেধাজ্ঞা দেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে কিছুদিন তারা চুপ থাকেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারো তারা মাটি ভরাট শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আমার ছোট বোন মরিয়ম ইয়াসমিন সেলিকে মারধর করতে উদ্যত হয় তাদের লোকজন। একপর্যায়ে ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরদিন পঞ্চগড় সদর থানায় আমরা মামলা করি। স্বামীর মৃত্যুর পর বাবার বাড়িতে থাকার সুযোগে নিষেধাজ্ঞার পরও তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। এমনকি ওই জমির ওপরই নর্থ পয়েন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হচ্ছে আজ।’ তিনি এতিমের জমি রক্ষার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। 

তিনি বলেন, ‘‌আমার দুই সন্তান এতিম। তাদের বাবার কেনা জমি ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে দখল করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করছে। তারা আমাদের আশ্বাস দিলেও সমঝোতায় বসেনি। আমি জমি রক্ষার দাবিতে ওই মেডিকেল কলেজের সামনে কাফনের কাপড় পরে অনশন শুরু করব। জমি ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত মরণ হলেও সেখান থেকে উঠব না।’ 

এ বিষয়ে নর্থ পয়েন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম রানা বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল কলেজটি ৩২ একর জমির মধ্যে হচ্ছে। এখানে ওই নারীর কোনো জমি নেই। তার পরও তারা আদালতে মামলা করেছেন। এ বিষয়ে আদালত রায় দেবেন। আর জমিতে নিষেধাজ্ঞার কোনো কাগজ আমরা পাইনি।’