অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে একদিনের ব্যবধানে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌছেছে রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক দল। ইতোমধ্যে সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা স্বজনদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে তারা। ঘটনার চারদিন পেড়িয়ে গেলেও নিহতের গ্রামে আতঙ্ক কাটনি এখনো।

গেল শুক্রবার ও শনিবার জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁও গ্রামে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের দুই সদস্য মিনা বেগম ও পশিনা বেগম নামে দুই নারী মারা যায়। এর পরপরই অসুস্থ হয়ে ওই পরিবারের আরো তিন সদস্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনার পর সনগাঁও গ্রামের আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পরে আতঙ্ক।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারা হলেন- তানজিনা আক্তার, হাজেরা খাতুন ও আলেয়া আক্তার। 

মৃত্যুর কারণ জানাতে ঘটনার দিন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে তারা কারণ নিশ্চিত করতে না পারায় দ্বারস্ত হন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটি থেকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চার সদস্যের একটি গবেষক দল আসেন ঠাকুরগাঁওয়ে। রাতেই হাসপাতালে ভর্তি থাকা স্বজনদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন নমুনা। কারণ অনুসন্ধানে আজ সকাল থেকে সনগাঁও গ্রাম পরিদর্শন করেন আইইডিসিআর এর গবেষক দলটি। সেখানে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহে কথা বলেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের সাথেও।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক দিনের ব্যবধানে দুজন কেন মারা গেল সেটাই আমরা জানতে চাই। অনেকে ভয়ে ওই বাসায় যাচ্ছে না বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহফুজার রহমান সরকার আইডিসিআর থেকে ৪ সদস্যের মেডিক্যাল টিম এসে ইতোমধ্যে অসুস্থ্য রোগীদের কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত ও নমুনা সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে তারা সনগাঁও গ্রামে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এসব নমুনা নিয়ে তারা ঢাকায় যাবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তিতে জানা যাবে প্রকৃত কারণ।

তবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা। তিনি সবাইকে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের পরামর্শ দেন।