দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের কেশবপুরে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) একটি প্রতিনিধি দল। এখানে চুম্বককে আকর্ষণ করে এমন ম্যাগনেটিক মিনারেল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
২০০১ সালে পার্শ্ববর্তী আমবাড়ী কুতুবপুর এলাকায় অনুসন্ধান করে ম্যাগনেটিক মিনারেলের অস্তিত্ব পায় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর। তখন কেশবপুরেও ভূ-পদার্থিক জরিপ শেষে খনিজ সম্পদের সম্ভাব্যতা দেখেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শুরুতে কেশবপুরে খনিজ সম্পদের সম্ভাব্যতা ও যাচাই কার্যক্রম শুরু করেন জিএসবি কর্মকর্তারা।
কেশবপুরে প্রায় এক বিঘা জমিতে তারকাঁটার বেড়া দেয়া হয়েছে। আনা হয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। মাড পাম্প বানানো হয়েছে। চলছে রিব ফাউন্ডেশন ঢালাইয়ের কাজ। ড্রিলিং কার্যক্রমে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান করা ভূতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের একটি রুটিন কাজ। কেশবপুরে ভূ-পদার্থিক জরিপ সম্পন্ন হওয়ার পর ড্রিলিং কার্যক্রম শুরুর পূর্ব প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ড্রিলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন জিএসবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল আজিজ পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় জিডিএইচ ৭৬/২১ কূপ খনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। সেখানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা প্রায় চার মাস অবস্থান করবেন। তাদের আনুষঙ্গিক সহায়তা, নিরাপত্তা, তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহসহ সংশ্লিষ্ট কাজে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।
চিঠিতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে জিওফিজিক্যাল সার্ভে থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাজে নেমেছি। ৫০০ মিটারেরও অধিক খনন করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ২০০ মিটার গভীরে ম্যাগনেটিক মিনারেল থাকতে পারে। পাশাপাশি কপার, নিকেল ও ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি থাকতে পারে। যদিও ড্রিলিং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমানের ভিত্তিতে কিছু বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের জুনে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে ভূগর্ভের ১ হাজার ৩০০ ফুট থেকে ১ হাজার ৬৫০ ফুটের মধ্যে লোহার একটি স্তর পাওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, যার আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার। খনিতে লোহার মানও ৬০ শতাংশের উপরে। এছাড়া ইসবপুরে ৫০০-৬০০ মিলিয়ন টন লোহাসহ মূল্যবান পদার্থ কপার, নিকেল, ক্রোমিয়াম রয়েছে বলেও জানানো হয়।










