মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ও কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে পাবনায় আঞ্চলিক গবেষণাগার মৃৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয় চলতি বছরের জুনে। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শহরতলির মহেন্দ্রপুর গ্রামে একটি বাসা ভাড়া ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ পাঁচজন জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু অফিসে আসবাব ও যন্ত্রপাতি না থাকায় কর্মকর্তারা এখনো কাজ শুরু করতে পারেননি। যদিও প্রতি মাসে বাসা ভাড়া ও কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরতলির মহেন্দ্রপুর গ্রামের একটি ভাড়া করা বাসায় আঞ্চলিক গবেষণাগার মৃৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। বাড়িটি গত জুনে ভাড়া নেয়া হলেও এখনো সাইনবোর্ডই বসানো হয়নি। ভেতরে অফিসের একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (এসএসও) ছাড়া কারো দেখা পাওয়া যায়নি। বসার জন্য কোনো চেয়ার ও দাপ্তরিক কাজের জন্য কোনো টেবিল নেই অফিসে। নেই মাটি পরীক্ষার জন্য কোনো যন্ত্রপাতিও। যদিও প্রতি মাসে বাসা ভাড়া বাবদ ২৭ হাজার টাকা ও কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিক্ষেত্রে দেশের মধ্যে পাবনার অবস্থান সুদৃঢ়। সরকার পাবনার কৃষকদের সহযোগিতার লক্ষ্যে মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক অবস্থা নিরূপণের জন্য এ আঞ্চলিক গবেষণাগার স্থাপন করেছে। কিন্তু অফিসের আসবাব ও সরঞ্জাম না থাকায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে অফিস ভাড়া ও কর্মকর্তাদের বেতন পুরোটাই অপচয় হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মামুন আল আহসান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, আমাকে চলতি দায়িত্বে পাবনা দপ্তরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো যোগদান করিনি। অফিসের আসবাব আনা হলে তবেই যোগদান করব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আঞ্চলিক ও গবেষণাগরসহ সারা দেশে ২৬টি নতুন অফিস স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি অফিসের অবস্থা পাবনার মতোই। তবে বেতিক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অফিস। সেখানে এরই মধ্যে আসবাব কেনা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হওয়ায় দ্রুত আসবাব কেনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খুশি করতে এ বৈষম্য না করে প্রতিটি নতুন অফিসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো ব্যবস্থা নেয়া হলে উপকার পাওয়া যেত। এতে অফিস ভাড়া ও বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের টাকার অপচয় হতো না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, আসবাব ঢাকার মহাপরিচালকের মাধ্যমে কেনা হবে। এতে পণ্যের দাম যেমন বাড়বে তেমনি পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। তার চেয়ে যদি স্থানীয় বাজার থেকে অফিসের আসবাব কেনা হয় তাহলে অনেক টাকা বাঁচবে।
এ ব্যাপারে পাবনা জেলা কৃষক লীগের সভাপতি শহীদুর রহমান শহীদ বলেন, এ পর্যন্ত পাবনা গবেষণাগারে কোনো আসবাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি, বিষয়টি দুঃখজনক। বর্তমান সরকার যেখানে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের জন্য বদ্ধপরিকর, সেখানে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে জনগণের অর্থে বাসা ভাড়া নিয়ে অপচয় অপরাধ। এর জন্য কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের কৃষক তাদের অধিকার ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের নীতিমালা অনুসারে দ্রুত ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে অফিসের প্রয়োজনীয় আসবাব কেনার দাবি জানান তিনি।
এসব বিষয়ে মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার বণিক বার্তাকে বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করতে দেরি হয়েছে। এজন্য আসবাব ও সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থছাড়ের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে অফিসগুলোর আসবাব কেনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, মাটি পরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতির দাম অনেক বেশি। এজন্য আলাদা প্রকল্প তৈরি করে যন্ত্রপাতি কিনে তা আঞ্চলিক অফিসে সরবরাহ করা হবে।










