ঝিনাইদহ পৌরসভার মহিষাকুণ্ডু এলাকায় ২০১৫ সালে গড়ে তোলা হয় সরকারি মূক ও বধির আবাসিক বিদ্যালয়। খুলনা বিভাগের একমাত্র মূক ও বধির স্কুলটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মূক ও বধির শিশুদের গার্মেন্টস অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, ফেন্সি উড ওয়ার্কসহ চার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতেই নির্মাণ করা হয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটিতে। ১০০টি আসন থাকলেও শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৪৭ জন। বাকি ৫৩টি আসন শূন্য রয়েছে বছরের পর বছর।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৮ এপ্রিল ঝিনাইদহ পৌরসভার মহিষাকুণ্ডু এলাকায় বিদ্যালয়টি নির্মাণ শুরু হয়। নয় বিঘা জমির ওপর বিদ্যালয়টি নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগের ব্যয় হয় ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মসিউর রহমান প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনে ভূমিকা পালন করেন। মূক ও বধির শিশুদের গার্মেন্টস অ্যান্ড এমব্রয়ডারি, ফেন্সি উড ওয়ার্কসহ চার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাবলম্বী করার উদ্যোগও নেয়া হয়। এখানে আবাসিক ও একাডেমিক মিলিয়ে রয়েছে পাঁচটি ভবন। এর মধ্যে লোকবল না থাকায় স্টাফ কোয়ার্টার ও অফিসার্স কোয়ার্টার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ভবন দুটির জানালা, দরজা ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা নাজুক। জঙ্গল ভবন দুটি ঘিরে ধরেছে। পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি কখনো। ২০১৫ সালে জোড়াতালি দিয়ে আবাসিক বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করলেও ২০২০ সাল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তবে তাদের পড়ানোর জন্য তখন শিক্ষক না থাকায় বাইরে থেকে তিনজন শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়। তাদের মধ্যে শিখা খাতুন প্রতিবন্ধী শিশুদের গার্মেন্টস অ্যান্ড এমব্রয়ডারি ও শিল্পী খাতুন সাধারণ শিক্ষা দিচ্ছেন।

স্কুলের কারিগরি প্রশিক্ষক হেলেনা শবনম জানান, ঝিনাইদহ সরকারি মূক ও বধির আবাসিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক, হাউজ প্যারেন্ট, সাধারণ শিক্ষক, হিয়ারিং এইড টেকনিশিয়ান ও কারিগরি প্রশিক্ষক পদে কোনো লোক নেই। এ কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে ভর্তি করাতে আগ্রহ দেখান না। বর্তমানে সব জিনিসের দাম বেশি। সে অনুপাতে শিক্ষার্থীপ্রতি যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তা অপ্রতুল। প্রতি মাসে শিক্ষার্থীপ্রতি বরাদ্দ মাত্র ৩ হাজার টাকা। এ টাকায় নিয়মমাফিক শিক্ষার্থীদের মাছ, মাংস ও ডিম খাওয়াতে হচ্ছে। ১০০ শিক্ষার্থী ভর্তি থাকলে প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে কিছুটা হলেও মানিয়ে নেয়া সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা লোকবলের জন্য প্রতিনিয়ত অধিদপ্তরকে চিঠি দিচ্ছি। তাছাড়া আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগকৃতদের বেতনের জন্য একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। হয়তো অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে।’