পরিবারভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রান্তিক মানুষের জন্য সোলার সিস্টেমে ছোট ঋণ চালুর উদ্যোগ নিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইডিকল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর মোরসেদ।
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ আহ্বান জানান। এ আয়োজন করে বণিক বার্তা।
আলমগীর মোরসেদ বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় স্বল্পসুদে উন্নয়ন ঋণ পাওয়া ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে উঠছে। ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি বিনিময় হারের ঝুঁকি কীভাবে মোকাবেলা করা হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। এ ধরনের ঝুঁকির কারণে প্রকল্পের অর্থায়ন সক্ষমতা কমে যায়।
তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থানীয় মুদ্রার তারল্য কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যেই আইডিকল আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনের (আইএফসি) সঙ্গে কাজ করেছে। আইএফসি আংশিক গ্যারান্টি বা অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টি ব্যবস্থা চালু করেছে। উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে শুধু ঋণের অর্থ চাওয়ার পরিবর্তে এ ধরনের গ্যারান্টি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নে আরো আগ্রহী হবে। তার মতে, স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন এ খাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গৃহস্থালি পর্যায়ে ছোট ঋণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আলমগীর মোরসেদ বলেন, দেশে মোট বিদ্যুতের ৫৫ শতাংশের বেশি ব্যবহার করে গৃহস্থালি খাত। তাই পরিবারভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং এর অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জন করা। এ লক্ষ্য পূরণে আগামী ৫ বছরে প্রতি বছর ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা গ্রিড-সংযুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন নিশ্চিত করা। ক্ষুদ্র ব্যবহারকারীদের জন্য ছোট আকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনে খুচরা ঋণ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন ধারণা নিয়ে এগিয়ে এসে ছোট ঋণ দিতে পারে। কারণ গৃহস্থালি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলমগীর মোরসেদ আরো বলেন, দেশে ঋণভিত্তিক পুঁজিবাজারের সীমাবদ্ধতাও বড় সমস্যা। এটি শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের নয়, পুরো পুঁজিব্যবস্থার সমস্যা। দেশের পুঁজিবাজার এখনো অনেকটাই ব্যাংকনির্ভর। কিন্তু খেলাপি ঋণসহ ব্যাংক খাতের বর্তমান নানা সমস্যার কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অর্থায়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা জরুরি। তার মতে, এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং বিকল্প অর্থায়নের উৎসগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।










