সিরাজগঞ্জ উপজেলার মৌচাষী মো. শাহদাৎ হোসেন। ২০ দিন আগে  দিনাজপুর সদর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে মো. শহীদুল ইসলামের লিচু বাগানে তিনি ১৩০টি মৌবাক্স বসিয়েছেন। গত দুই সপ্তাহে এ বাগান থেকে তিনি প্রায় ১০ টন মধু সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, লিচুর মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় সারা দেশ থেকে আসা পাঁচ শতাধিক মৌচাষী লিচুর মধু সংগ্রহ করছেন। বিসিক কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর  জেলায় মধু উৎপাদন ১ হাজার ৫০০ টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

দিনাজপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি লিচুর বাগান রয়েছে বিরল উপজেলায়। সরেজমিন বিরল উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, লিচু বাগানের ভেতর দিয়ে শত শত মৌবাক্স স্থাপন করেছেন মৌচাষীরা। মৌমাছিরা লিচুর ফুলে ফুলে বসে মধু তুলে নেয়, আর সে মধু সংগ্রহ করতেই যেন উৎসবে মেতেছেন লিচু বাগানের মৌচাষীরা। এতে একদিকে যেমন লিচুর ফুলের পরাগায়ন হচ্ছে, অন্যদিকে লিচুর উৎপাদনও বাড়ছে। সমন্বিত এ প্রক্রিয়ায় লিচু বাগানি ও মৌচাষী উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দিনাজপুরের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন জানান, দিনাজপুরের স্থানীয় মৌচাষী ১২০ জন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন আরো চার শতাধিক মৌচাষী। সব মিলিয়ে দিনাজপুর জেলায় চলতি লিচু মৌসুমে পাঁচ শতাধিক মৌচাষী মধু আহরণ করছেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর এলাকায় মৌবাক্স বসিয়েছেন মোসাদ্দেক বি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মোসাদ্দেক হোসেন। তিনি জানান, এক সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৌচাষীরা লিচুর মধু আহরণ করতে আসতেন এ জেলায়। এখন বাইরের জেলার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকরা মৌচাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিগত বছরগুলোয় দিনাজপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মৌচাষীদের প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে মৌবাক্স প্রদান করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণ নেয়ার ফলে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক সফল মৌখামারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।  

উত্তরবঙ্গ মৌচাষী সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, চলতি মৌসুমে সারা দেশ থেকে চার শতাধিক মৌখামারির চার হাজার কর্মী দিনাজপুর জেলায় মধু সংগ্রহ করছেন। এ বছর লিচু বাগানগুলোয় প্রচুর ফুল আসায় মধু সংগ্রহের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে বেশি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মো. মাহবুবুর রশীদ জানান, দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে হেক্টর প্রতি ২৪৭টি লিচু গাছ হিসেবে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ লিচুর গাছে ফুল এসেছে। এর পাশাপাশি ১৮ লাখ গাছ ও সে গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করবেন মৌচাষীরা। মৌমাছির এ পরাগায়নের ফলে লিচুর ফলন ৩০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দিনাজপুরের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আমজাদ হোসেন জানান, গুণগত মান ও স্বাদের দিক থেকে লিচু ফুলের মধু অনন্য। দেশে এ মধুর বাণিজ্যিক চাহিদা রয়েছে। এ মৌসুমে দিনাজপুর জেলার স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঁচ শতাধিক মৌখামারি লিচুর বাগান থেকে মধু সংগ্রহ করছেন। চলতি মৌসুমের মার্চ মাস পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় ১ হাজার ২০০ টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এর পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।