পাহাড় ধস রোধে বান্দরবানে টানেল সড়ক নির্মাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। শহরের পুরনো বাস টার্মিনাল ও নতুন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে দুই পাহাড়ের পাথুরে ঢাল কেটে টানেলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে স্থাপনাটি উদ্বোধন করা হয়। তবে তহবিল সংকটে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না টানেলটির। নির্মাণের তিন বছর যেতে না যেতেই অনেকটা জীর্ণ হয়ে পড়েছে টানেলটি।
মূলত এটি একটি সংযোগ সড়ক (কানেক্টিং রোড)। নির্মাণ শেষে অনেকটা টানেল রূপ নেয় স্থাপনাটি। স্থানীয়দের কাছেও এটি টানেল নামেই বেশ পরিচিত। তবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, অফিশিয়ালি এ স্থাপনাটি একটি কানেক্টিং রোড।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে উদ্বোধন-পরবর্তী কানেক্টিং রোডটি হস্তান্তর করা হয় বান্দরবান পৌরসভাকে৷। এর আগে ২০২১ সালে নির্মাণ শেষে হাফেজঘোনা নতুন বাসস্টেশনও বান্দরবান পৌরসভাকে হস্তান্তর করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। তবে নতুন বাসস্টেশনটি নিম্নাঞ্চলে হওয়ায় বর্ষাকালে প্লাবিত হয়। এজন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাসস্টেশনটি উঁচুকরণসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের প্রকল্প গ্রহণ করে উন্নয়ন বোর্ড, যা বর্তমানে চলমান। তবে বাসস্টেশন ইজারা দিতে না পারায় আয়ের সংস্থান হয়নি। এজন্য টানেলটির রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বান্দরবান পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইজারা দেয়ার মাধ্যমে বাসস্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করে আসছে পৌরসভা। বাস্তবতার আলোকে বাসস্টেশন ইজারার টাকার ৫০ শতাংশ পৌরসভা, ৪০ শতাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সংরক্ষিত তহবিলে জমা রাখার জন্য সম্প্রতি পার্বত্য বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক।’
সরজমিনে দেখা গেছে, কানেক্টিং রোডটির কোথাও কোথাও এক দেয়ালের সঙ্গে আরেক দেয়ালের ফাঁক রয়েছে। ওই স্থান দিয়ে পানি পড়ছে। টানেলের দক্ষিণে ফুটপাত রয়েছে। ফুটপাতের নিচের অংশে কাদা ভর্তি দেখা গেছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াসির আরাফাত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রকৌশল পদ্ধতি অনুযায়ী কোনো লম্বা আরসিসি স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট রাখতে হয়। কানেক্টিং রোডটির দৈর্ঘ্য ৫০০ ফুটের কিছু বেশি। ওপর দিকে বাঁকানো ছাদ দেয়ার পর স্থাপনাটি দৃশ্যত টানেলের মতো রূপ নেয়। স্থানীয়দের কাছেও টানেল হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু নির্মাণ নকশা অনুযায়ী এটি টানেল নয়, মূলত সংযোগ সড়ক।’
ইজারার আয়-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে উন্নয়ন বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাসস্টেশনটির ইজারার আয়ের ৫০ শতাংশ উন্নয়ন বোর্ড, ৪০ শতাংশ পৌরসভা ও ১০ শতাংশ সংরক্ষিত তহবিলে জমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।’ অবশ্য শুরুতে সম্পাদন হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ৬০ শতাংশ উন্নয়ন বোর্ড, ৩০ শতাংশ বান্দরবান পৌরসভা ও সংরক্ষিত তহবিলের জন্য ১০ শতাংশ ছিল বলে জানান তিনি।










