ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৭টি ওয়ার্ডের সঙ্গে ২০১৮ সালে নতুন আরো ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়। এর ফলে দৈনন্দিন বর্জ্য অপসারণ রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের জন্য। এ সমস্যা মোকাবেলায় ৪০০ কোটি টাকার আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনাটি পাস হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চলমান সংকট কেটে যাবে।

ডিএসসিসি সূত্র বলছে, যান-যন্ত্রপাতিগুলো কেনার জন্য একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এটি এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হয়নি। এ মাসের মধ্যেই প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। প্রস্তাবটি পাস হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কেটে যাবে এবং শতভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে।

জানা গেছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কাটাতে ১৭ ধরনের ২৫৫টি আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি কেনার একটি খসড়া পরিকল্পনা করেছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। যার আনুমানিক ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। ক্রয় পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে তিন টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ২০টি, পাঁচ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৫০টি ও সাত টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮০টি কমপেক্টর, তিন টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনার ক্যারিয়ার ২১টি, আট টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাম্পট্রাক আটটি, রোড সুইপার ১০টি, জেট অ্যান্ড সাফার চারটি, ব্যাকহো লোডার পাঁচটি, শর্ট বুম এক্সক্যাভেটর দুটি, লং বুম এক্সক্যাভেটর দুটি, ছোট এক্সক্যাভেটর দুটি, ভাসমান এক্সক্যাভেটর দুটি, বুলডোজার তিনটি, পে লোডার চারটি, টায়ার ডেজুল দুটি ও স্কিড স্টিয়ার লোডার ৩০টি।

ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ৩ হাজার ২০০ টন থেকে ৩ হাজার ৫০০ টন পর্যন্ত বর্জ্য উত্পন্ন হয়। ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ তিনটি হুইল ডোজার, পাঁচটি এক্সক্যাভেটর, পাঁচটি বুলডোজারের মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ ট্রিপে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে অপসারণ করছে। তবে যান-যন্ত্রপাতির সংকট থাকায় ডিএসসিসির সব এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ডিএসসিসির সড়ক ও বাসাবাড়ির সামনে জমছে বর্জ্যের স্তূপ। এ অবস্থায় বর্জ্য ব্যবস্থায় যান-যন্ত্রপাতি কেনার এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন বিউপি বণিক বার্তাকে বলেন, যন্ত্রপাতি ও লোকবল সংকটের মধ্যেই নতুন সংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের বর্জ্যের দায়িত্বও আমাদের হাতে পড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সংকট প্রকট হয়েছে। আমাদের অনেক কাউন্সিলর এখনো এসটিএসের (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) জায়গাগুলো বুঝে পাননি। ফলে বাসাবাড়ির আঙিনায় দৃশ্যমান বর্জ্য বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান লোকবল ও যান-যন্ত্রপাতি দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করতে পারছি। প্রতিদিন যদি সড়ক ও অলিগলিতে ২০ শতাংশ বর্জ্য জমা হয়, তাহলে মাসে ও বছরের পরিসংখ্যানে কত ভয়াবহ হতে পারে তা কল্পনা করলেও তো শিউরে উঠতে হয়। আশার কথা হলো, চলমান সংকট মোকাবেলায় যান-যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

তবে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যান-যন্ত্রপাতির পাশাপাশি আছে লোকবল সংকটও। যান-যন্ত্রপাতি কেনা হলে লোকবলের অভাবে এসব সরঞ্জাম অলস পড়ে থাকবে কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড. মো. শফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের শুধু যান-যন্ত্রপাতিই নয়, লোকবল সংকটও রয়েছে। তবে আনন্দের কথা হলো, এ বিষয়টি নিয়ে মেয়র নিজে খুব সচেতন। তিনি এখন থেকেই হালকা ও ভারী যান চালানোয় পারদর্শী এবং অন্যান্য লোকবল নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন, যেন যন্ত্রপাতি কেনার পর লোকবলের অভাবে কাজ বন্ধ না থাকে।