বগুড়ার শেরপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত পুলিশের ওসি রেজাউল করিম রেজাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বেলা ১টার দিকে শেরপুর শহরের ধুনট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এছাড়া বগুড়ার সান্তাহারে শিক্ষার্থীরা ট্রেন অবরোধ করে রাখে। এ সময় সান্তাহার জংশন স্টেশনের আউটার সিগনালের কাছে আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টা থেকে শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় জড়ো হয়। এর কিছু সময় পর বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করতে থাকে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কর্মসূচি চলতে থাকায় শহরজুড়ে যানজট ও দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১২টার সময় আন্দোলকারীরা মহাসড়কের দখল নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক ছেড়ে চলে যেতে বললেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। থেমে থেমে কয়েক দফায় চলা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে শেরপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা, সাংবাদিক আইয়ুব আলী, ওমর ফারুক ও আব্দুল হান্নান রোকনসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১০-১২ জন শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুমন জিহাদী জানান, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ভাঙচুর করায় পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে বুধবার বেলা ১২টায় বগুড়ার সান্তাহারে শিক্ষার্থীরা ট্রেন অবরোধ করে। এ সময় সান্তাহার জংশন স্টেশনের আউটার সিগনালের কাছে আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে ছিল। চিলাহাটি থেকে ট্রেনটি খুলনায় যাচ্ছিল। ট্রেন অবরোধের সংবাদ পেয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজসহ পুলিশের কর্মকর্তারা অবরোধকারীদের কথা সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে বেলা দেড়টায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

আদমদিঘী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, অবরোধকারীদের বুঝিয়ে ট্রেন অবরোধ মুক্ত করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।