পাবনায় তিল আবাদ কমতে শুরু করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের অবহেলার কারণে তিলের আবাদ কমছে। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের এ বছর দীর্ঘ খরা থাকায় তিলের আবাদ কমেছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খরিপ-১ মৌসুমে পাবনা জেলার নয় উপজেলায় ১০ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ করেছেন কৃষকরা। একই সময়ে গত বছর ফসলটির আবাদ হয়েছিল ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর। সরকার তিলের আবাদ বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন উপায়ে তিল বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। এজন্য বিএডিসির অধীনে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন খামার, টেবুনিয়াতে বিনা তিল-২ জাতের ৯ একর জমিতে ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের গাফিলতির কারণে কৃষক পর্যায়ে তিল উৎপাদনে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিএডিসির ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন খামার, টেবুনিয়ার উপপরিচালক ড. শামীম আহমেদ জানান, তিল উৎপাদনে কৃষকের তেমন খরচ নেই। সার ও সেচ সুবিধার প্রয়োজন হয় না। ফলে ফসলটি আবাদে কৃষকের খরচও কম। রোগবালাই নেই বললেই চলে। পরিচর্যায়ও তিলচাষীদের কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। বিদেশে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও এ ফসল থেকে আসে। জেলার আটঘরিয়ার তিলচাষী মোতালেব ও সাথিয়া উপজেলার তিলচাষী আকরামসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, মৌসুমের প্রথমে খরা থাকায় তিল চাষে প্রতিবন্ধকতা ছিল। এর মধ্যেও ১০ হাজার হেক্টরের ওপরে চাষীরা স্বউদ্যোগে তিলের আবাদ করেছেন। কিন্তু জেলার কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উচ্চ পর্যায় থেকে আমরা কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দিকনির্দেশনা না পেয়ে তিল আবাদ করতে পারিনি। প্রতি বছর সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় ছাড়াও দিকনির্দেশনা এবং বৈরী পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান করতেন। এ বছর সে দিকনির্দেশনা থেকে কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের জানান, খরার কারণে তিলের আবাদ কম হয়েছে। তবে যেসব কৃষক সেচ দিতে পেরেছেন, তারাই তিলের আবাদ করতে সক্ষম হয়েছেন।