পিরোজপুরের নাজিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন খানের  বিরুদ্ধে খাস জমি দখল করে আধাপাকা স্থাপনা তৈরি করে ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদের প্রবেশপথের পাশে তার এ অবৈধ স্থাপনার কারণে যানবাহন চলাচল ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দখলকারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এ খাস জমি উদ্ধারে গতি নেই।

নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু জানান, মোশারেফ হোসেন খান প্রায় দেড় যুগ ধরে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থাকা প্রায় ৫০ শতক খাস জমি দখল করে আধাপাকা স্থাপনা তৈরি করে ভাড়া দিচ্ছেন।

নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া বলেন, নাজিরপুর উপজেলা সদর থেকে হুমায়ুন হাজরার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে সড়কটি শুরুর স্থান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে নদীর তীর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার খাস জমি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খান দখল করে অবৈধ স্থাপনা করেছেন। সেগুলো অপসারণ না করায় ডিজাইন অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, যারা ওই জায়গা দখল করে আছে, তাদের এরই মধ্যে নোটিস করা হয়েছে এবং উচ্ছেদ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি যে-ই অবৈধভাবে দখল করে রাখুক, আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তা উচ্ছেদের ব্যবস্থা করব এবং তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি মোশারেফ হোসেন খান বলেন, ওই সম্পত্তি আমার ক্রয় করা ছিল। এক পর্যায়ে সরকার অধিগ্রহণ করে নিলে আমি সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করি। মামলায় আমি হেরে গিয়ে একসনা লিজ নিয়ে ভোগদখলে আছি। সরকার নতুন করে লিজ না দেয়ায় নবায়ন করা সম্ভব হয়নি।