দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে আইপিএস ও ব্যাটারির চাহিদা বাড়ছে। চাহিদা বাড়ার প্রভাব পড়েছে দামেও—ছয় মাসে মানভেদে বিভিন্ন ধরনের আইপিএসের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। পাশাপাশি বেড়েছে ব্যাটারির দামও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর, মিরপুর ও কলাবাগানের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলের তুলনায় বর্তমানে প্রায় সব ব্যান্ডের আইপিএসের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, একই মান ও সক্ষমতার যে আইপিএস এপ্রিলে ২০-২১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটির দাম এখন ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা। সে হিসেবে ছয় মাসে দেশের বাজারে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস ধরে লোডশেডিংয়ের প্রভাবে বাজারে হঠাৎই বেড়েছে আইপিএসের চাহিদা। কোনো কোনো দোকানে আইপিএসের বিক্রি এ সময়ে দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার ভারসাম্য না থাকায় আইপিএসের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
নতুন আইপিএস কেনার পাশাপাশি পুরনো আইপিএসের ব্যাটারি পরিবর্তন করতেও গ্রাহকরা দোকানে যাচ্ছেন। স্বল্প সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট সামাল দিতে সক্ষম হলেও পুরনো ব্যাটারি দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে ব্যাকআপ দিতে পারছে না। ফলে অনেক ব্যবহারকারী পুরনো ব্যাটারি পরিবর্তন করে বেশি ক্ষমতার নতুন ব্যাটারি কিনছেন। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ২০০ অ্যাম্পিয়ারের যে ব্যাটারি ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটির দাম এখন ৩৩ হাজার টাকা।
কলাবাগানে আইপিএসের ব্যাটারি কিনতে এসেছিলেন ইনতিসার আহমেদ। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে বাচ্চাদের খুব কষ্ট হয়। বাসায় থাকা পুরনো আইপিএসের ব্যাটারি এখন আর ঠিকমতো সাপোর্ট দিচ্ছে না। বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে বেশি দাম হলেও ব্যাটারি কিনতে হচ্ছে।’
ব্যাটারির মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে দেশের অন্যতম একটি ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাঁচামালের একটি অংশ আমদানি করতে হয়। এসব কাঁচামাল দেশে আনতে সময় লাগে। তবে দ্রুততার সঙ্গে কাঁচামাল আনতে গেলে শিপমেন্ট খরচ বেড়ে যায়। এতে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, চাহিদা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে ব্যাটারির দাম আরো ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
দেশের আইপিএস ও ব্যাটারি শিল্পের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রহিমআফরোজ। এ প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ পরিচালক নিয়াজ রহিম ব্যাটারির উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের উৎপাদন ও বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ কাজ করার সুযোগ ছিল, তা করতে পারছি না। এর অন্যতম প্রধান কারণ ব্যাংক থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ঋণ পেলে উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারের চাহিদা পূরণে আমরা আরো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারতাম।’
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসাবাড়ির পাশাপাশি দোকান, অফিস ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও আইপিএসের চাহিদা বেড়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান আগেভাগেই ব্যাকআপের ব্যবস্থা করছে।
বাজারে সব ব্র্যান্ডের আইপিএস ও ব্যাটারির দাম একই হারে বাড়েনি। ব্র্যান্ড, মডেল, সক্ষমতা, মান ও ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী মূল্যবৃদ্ধির হিসাব ভিন্ন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দামে পার্থক্য থাকলেও গত ছয় মাসে আইপিএস ও ব্যাটারির বাজারে সামগ্রিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ।










