বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ঝড়ের কবলে পড়ে অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি ইনজাম’ তলা ফেটে ডুবে গেছে। এর আগেই চালক লঞ্চটি চরে নোঙর করে ১৬ জন যাত্রীকে নামিয়ে দেন। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় ঝড়ে গাছ পড়ে রজিদ শেখ নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া বজ্রপাতে দুই জেলে শাহে আলম ও মো. তানজিল আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হিজলা উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা উল্টে জেলে মাসুদ রাঢ়ি নিখোঁজ হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার বাবা আবুল কালাম। হিজলায় ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে কমপক্ষে ২৫ ঘরবাড়ি। এ সময় গাছ পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স।
সড়কে গাছ পড়ে থাকায় বরিশালের সঙ্গে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও হিজলা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবিদ হাসান।
বরিশাল সদর উপজেলায় গাছচাপায় নিহত রজিদ চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ইসরাইল শেখের ছেলে। আর বজ্রপাতে আহত হয়েছেন দুই জেলে মোতাহার হাওলাদারের ছেলের শাহে আলম ও ইউনুস ঢালীর ছেলে মো. তানজিল। তারা চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মেহেন্দিগঞ্জের কাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ জানান, গতকাল সকালে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ হিজলার টেক থেকে যাত্রী নিয়ে কাজিরহাটের লতা ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখান থেকে বরিশালের দিকে যাওয়ার কথা ছিল লঞ্চটির। লতা ঘাটে পৌঁছার আগেই হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। ঝড়ের কবলে পড়ে তলা ফেটে গেলে লঞ্চটি পূর্ব ভংগাসংলগ্ন নদীর চরে উঠিয়ে দেন চালক। এরপর যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নিরাপদে নেমে গেলে এটি কাত হয়ে ডুবে যায়।
হিজলা উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবিদ হাসান বলেন, ‘মেঘনায় মাছ শিকার করতে গিয়ে বাবা কালাম ও ছেলে মাসুদ ঝড়ো বাতাসে নৌকা উল্টে নদীতে পড়ে যান। বাবাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে অন্য জেলেরা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া উপজেলার ২৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে উপড়ে পড়েছে। এ কারণে সড়ক পথে বরিশালের সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।










